ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দায়িত্বকালীন সময়ের নানা স্মৃতি আর আবেগের কথা জানিয়ে

বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে: আসিফ নজরুল

বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে: আসিফ নজরুল
ছবি সংগৃহীত

বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে: আসিফ নজরুল

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিচ্ছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। দায়িত্বকালীন সময়ের নানা স্মৃতি আর আবেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন—“বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে।”

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাসা ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook–এ দেওয়া সেই পোস্টে তিনি লেখেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে হচ্ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সপরিবারে বাসাটি ত্যাগ করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দায়িত্ব ও বিদায়ের প্রেক্ষাপট

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর হেয়ার রোড এলাকার সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন ড. আসিফ নজরুল।

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বাসাটি শুধু একটি সরকারি আবাসন ছিল না; বরং দায়িত্বকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আলোচনাসভা, পারিবারিক মুহূর্ত এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এই জায়গাটি। তাই বিদায়ের মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ কাজ করছে।

আবেগঘন বার্তা

ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দায়িত্ব শেষ হওয়ায় বাসা ছাড়তে হচ্ছে—এটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে দীর্ঘ সময় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসবাস করলে সেখানে এক ধরনের মানসিক বন্ধন তৈরি হয়। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের জন্যও এমন স্থান পরিবর্তন সহজ নয়।

তিনি লেখেন, সরকারি দায়িত্বের সময়টুকু ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। নানা আইনগত ও নীতিগত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা, সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মুহূর্তগুলো এই বাসভবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে বিদায়ের সময় বাসাটির জন্য আলাদা করে মায়া অনুভব করছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর ফলে আগের সরকারের উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর ও বাসভবন ছাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

ড. আসিফ নজরুলের পোস্টে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য বা সমালোচনা ছিল না; বরং তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক দায়িত্ব হস্তান্তরের অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন। তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত অনুভূতিই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া

তার পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে দায়িত্ব পালনকালে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিদায়ের মুহূর্তে তার আবেগঘন মন্তব্যকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন।

সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জীবনে এমন পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। তবে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ায় বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

সামনে কী?

বাসা ছাড়ার পর তিনি কোথায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন—সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সপরিবারে সরকারি বাসভবন ত্যাগ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও জনপরিসরে তার উপস্থিতি ও মতামত ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সরকারি আবাসন ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তার এক লাইনের মন্তব্য—“বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে”—দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের এক সংবেদনশীল সংযোগের দিকটিই যেন সামনে নিয়ে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে: আসিফ নজরুল

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে: আসিফ নজরুল

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিচ্ছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। দায়িত্বকালীন সময়ের নানা স্মৃতি আর আবেগের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন—“বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে।”

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাসা ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook–এ দেওয়া সেই পোস্টে তিনি লেখেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে হচ্ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সপরিবারে বাসাটি ত্যাগ করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দায়িত্ব ও বিদায়ের প্রেক্ষাপট

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর হেয়ার রোড এলাকার সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন ড. আসিফ নজরুল।

তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বাসাটি শুধু একটি সরকারি আবাসন ছিল না; বরং দায়িত্বকালীন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আলোচনাসভা, পারিবারিক মুহূর্ত এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এই জায়গাটি। তাই বিদায়ের মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ কাজ করছে।

আবেগঘন বার্তা

ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দায়িত্ব শেষ হওয়ায় বাসা ছাড়তে হচ্ছে—এটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে দীর্ঘ সময় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসবাস করলে সেখানে এক ধরনের মানসিক বন্ধন তৈরি হয়। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের জন্যও এমন স্থান পরিবর্তন সহজ নয়।

তিনি লেখেন, সরকারি দায়িত্বের সময়টুকু ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। নানা আইনগত ও নীতিগত বিষয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা, সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মুহূর্তগুলো এই বাসভবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে বিদায়ের সময় বাসাটির জন্য আলাদা করে মায়া অনুভব করছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর ফলে আগের সরকারের উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর ও বাসভবন ছাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

ড. আসিফ নজরুলের পোস্টে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য বা সমালোচনা ছিল না; বরং তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক দায়িত্ব হস্তান্তরের অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন। তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত অনুভূতিই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

জনমনে প্রতিক্রিয়া

তার পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে দায়িত্ব পালনকালে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিদায়ের মুহূর্তে তার আবেগঘন মন্তব্যকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন।

সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জীবনে এমন পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। তবে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ায় বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

সামনে কী?

বাসা ছাড়ার পর তিনি কোথায় স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন—সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সপরিবারে সরকারি বাসভবন ত্যাগ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও জনপরিসরে তার উপস্থিতি ও মতামত ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সরকারি আবাসন ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তার এক লাইনের মন্তব্য—“বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে”—দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের এক সংবেদনশীল সংযোগের দিকটিই যেন সামনে নিয়ে এসেছে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল