দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনীই নিরাপদ—এমন ধারণায় ছিল হাসিনার শাসন
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে গভীর অস্থিরতা ও বিভাজনের সূচনা হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ওই ঘটনার পর থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের মধ্যে ভারত ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও ঘৃণা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অসন্তোষ আরও গভীর হয় এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে শুরু করে।
বিশেষ করে সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দেয়। পেশাদার, মেধাবী ও স্বাধীনচেতা কর্মকর্তাদের ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অনুগত ও ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রতি বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে সামনে আনা হয়।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে নানা জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপকভাবে যুক্ত করা হয়। রাস্তা নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্যিক প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাহিনীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়। সমালোচকদের মতে, এর ফলে সেনাবাহিনীর মূল পেশাগত চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুর্নীতির ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, শেখ হাসিনার শাসনামলে এই কৌশল সচেতনভাবেই গ্রহণ করা হয়েছিল। কারণ তিনি মনে করতেন—একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তার বিপরীতে, আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে দুর্বল বা দুর্নীতিগ্রস্ত বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ এবং রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ।
এই নীতির ফলাফল হিসেবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আস্থার সংকট তৈরি হয়। বাহিনীর ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনীই নিরাপদ—এমন ধারণায় ছিল হাসিনার শাসন
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে গভীর অস্থিরতা ও বিভাজনের সূচনা হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ওই ঘটনার পর থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের মধ্যে ভারত ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি তীব্র অসন্তোষ ও ঘৃণা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অসন্তোষ আরও গভীর হয় এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে শুরু করে।
বিশেষ করে সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দেয়। পেশাদার, মেধাবী ও স্বাধীনচেতা কর্মকর্তাদের ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তাদের জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অনুগত ও ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রতি বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে সামনে আনা হয়।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে নানা জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপকভাবে যুক্ত করা হয়। রাস্তা নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্যিক প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাহিনীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়। সমালোচকদের মতে, এর ফলে সেনাবাহিনীর মূল পেশাগত চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুর্নীতির ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, শেখ হাসিনার শাসনামলে এই কৌশল সচেতনভাবেই গ্রহণ করা হয়েছিল। কারণ তিনি মনে করতেন—একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী সেনাবাহিনী রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তার বিপরীতে, আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে দুর্বল বা দুর্নীতিগ্রস্ত বাহিনী নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ এবং রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ।
এই নীতির ফলাফল হিসেবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আস্থার সংকট তৈরি হয়। বাহিনীর ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন