৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, অর্থাৎ বিএনপির জন্য দিনটি একই সাথে শোক এবং এক নতুন যুগের সূচনার। এদিন সকালেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দলের চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তী চরিত্র বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই চলে যাওয়ায় শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়েরই সমাপ্তি ঘটেনি, জন্ম দিয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার, বিশেষ করে তাঁর নিজের নির্বাচনী আসনগুলোকে ঘিরে।
কিন্তু শোকের এই আবহেই রাজনীতির মাঠে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বেগম জিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনটি সংসদীয় আসনের ভবিষ্যৎ কী? কে ধরবেন এই আসনগুলোতে বিএনপির হাল? একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ডামাডোল, অন্যদিকে দলের সবচেয়ে বড় তারকার বিদায়—সবকিছু মিলিয়ে এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পর্দার আড়ালে বিএনপি যে তিনজন নেতাকে এই গুরুদায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করছে, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও শক্তি-দুর্বলতা নিয়েই আমাদের আজকের বিশ্লেষণ। এই তিন নেতা কি পারবেন বেগম জিয়ার রেখে যাওয়া বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে? চলুন, পর্দার আড়ালের সেই সম্ভাব্য নতুন মুখগুলোর পরিচয় জেনে নেওয়া যাক।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এলেও বেগম খালেদা জিয়ার পথচলা ছিল বর্ণাঢ্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দেশনেত্রী হিসেবে। তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া এবং কয়েক দশক ধরে বিএনপির মতো বড় একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। তাই তাঁর মৃত্যু কেবল আবেগগত শূন্যতা নয়, এটি বিএনপির জন্য এক বিরাট কৌশলগত ধাক্কা।
এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন—ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩। ফেনী-১ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূতিকাগার, যেখান থেকে তিনি বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। বগুড়া-৭ কেবল তাঁর আসনই নয়, এটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি আবেগঘন এলাকা, যা বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আর দিনাজপুর-৩ আসনের সাথেও জড়িয়ে আছে তাঁর ও তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস।
জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখে বিএনপিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাইকমান্ড এই সংকটময় মুহূর্তে কাদের ওপর আস্থা রাখছে, তা এখন জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। এই সিদ্ধান্ত শুধু তিনটি আসনের ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না, বরং এটি হতে যাচ্ছে খালেদা-পরবর্তী যুগে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।
ফেনী-১ এর নতুন কান্ডারী: রফিকুল আলম মজনু)
বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্থানের সাক্ষী ফেনী-১ আসন। পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন কয়েক দশক ধরে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে বিএনপির একটি নিশ্চিত আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর এই হেভিওয়েট আসনে দল যাঁকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে, তিনি হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু।
রফিকুল আলম মজনুর পরিচয় শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক নয়; তিনি ফেনী-১ আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা মজনু সময়ের সাথে সাথে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, বিশেষ করে ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ও কর্মীদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফেনীর স্থানীয় রাজনীতির সাথে তাঁর সংযোগ কতটা গভীর?
জানা যায়, রফিকুল আলম মজনু দীর্ঘদিন ধরেই ফেনীর নেতাকর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। বেগম জিয়ার অসুস্থতার সময় তিনি নিজ এলাকা ফুলগাজীতে একাধিক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও তিনি নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা তাঁকে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত করে তুলেছে।
তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তিনি দলের হাইকমান্ড, বিশেষ করে তারেক রহমানের একজন অনুগত নেতা। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর খ্যাতি এবং ঢাকার মতো জটিল রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে কাজের জন্য প্রস্তুত করেছে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ফেনী-১-এর ভোটাররা কয়েক দশক ধরে বেগম জিয়াকে ভোট দিয়ে অভ্যস্ত। মজনুর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, বেগম জিয়ার সেই ব্যক্তিগত ভোটব্যাংককে নিজের পক্ষে ধরে রাখা। তিনি কি পারবেন কেবল দলীয় প্রতীক আর সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে সেই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে? উত্তর জানতে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
৩: বগুড়ার দুর্গ রক্ষায় মোরশেদ আলম (মিল্টন))
বগুড়াকে বলা হয় বিএনপির প্রাণকেন্দ্র। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় এই জেলার প্রতিটি আসনই বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগের। এর মধ্যে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর) আসনটি বেগম জিয়ার অন্যতম প্রধান নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার মানুষ জিয়া পরিবারকে নিজেদেরই অংশ মনে করে। এই দুর্গ রক্ষার জন্য বেগম জিয়ার বিকল্প হিসেবে বিএনপি আস্থা রেখেছে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমের ওপর, যিনি স্থানীয়ভাবে মিল্টন নামেই বেশি পরিচিত।
মোরশেদ আলম এই এলাকার 'ভূমিপুত্র'। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনটাই আবর্তিত হয়েছে গাবতলী আর বগুড়ার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। একজন নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের সাথে তাঁর সরাসরি সংযোগ আছে, যা জাতীয় নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর। তিনি শুধু দলীয় পদেই সীমাবদ্ধ নন, ব্যক্তিগতভাবেও এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত এবং সম্মানিত মুখ।
তাঁর প্রধান শক্তি হলো তাঁর শক্তিশালী স্থানীয় ভিত্তি। তিনি বগুড়া-৭ আসনের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নের রাজনৈতিক সমীকরণ খুব ভালোভাবে বোঝেন। জিয়া পরিবারের প্রতি এখানকার মানুষের আবেগকে ভোটে রূপান্তরিত করার কৌশল তিনি জানেন। তবে চ্যালেঞ্জটাও এখানেই। শোনা যায়, এই আসন থেকে প্রায় ৪০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, যা প্রমাণ করে এই আসনের গুরুত্ব কতটা তীব্র। মোরশেদ আলমকে প্রার্থী করার পর দলের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পুরোপুরি পাশে পাওয়া এবং তাঁদের সমর্থন আদায় করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাঁকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি কেবল একজন স্থানীয় নেতাই নন, জিয়া পরিবারের রেখে যাওয়া এই আমানত রক্ষা করার যোগ্য সেনাপতিও বটে।
৪: দিনাজপুরের কৌশলগত পছন্দ: সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম)
ফেনী এবং বগুড়ার মতো দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনটি বিএনপির নিশ্চিত দুর্গ না হলেও, এর একটি কৌশলগত এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। বেগম জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একবার এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাঁর বোন, প্রয়াত খুরশিদ জাহান হক (চকলেট আপা) ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন, যা জিয়া পরিবারের সাথে এই আসনের একটি পুরোনো সংযোগ তৈরি করেছে। এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বেগম জিয়ার বিকল্প হিসেবে দল মনোনয়ন দিয়েছে দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নকে অনেকেই একটি মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখছেন। তিনি টানা তিনবার দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও তাঁর একটি শক্তিশালী ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। শহরের মেয়র হিসেবে কাজ করার সুবাদে দিনাজপুর সদর আসনের ভোটারদের একটি বড় অংশের সাথে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আইনগত জটিলতা এড়াতে কিংবা একজন শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী হিসেবেই তাঁকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর তিনিই এখন এই আসনের মূল প্রার্থী। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং প্রমাণিত নির্বাচনী সাফল্য। যেখানে অন্য প্রার্থীরা মূলত দলের ভোটের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন, সেখানে জাহাঙ্গীর আলম নিজের ব্যক্তিগত ভোটব্যাংককেও কাজে লাগাতে পারবেন।
তবে তাঁর চ্যালেঞ্জ হলো, দিনাজপুর-৩ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসন। এখানে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমকে তাই কেবল বিএনপির ভোটই নয়, বরং সাধারণ ও ভাসমান ভোটারদেরও সমর্থন আদায় করতে হবে, যা তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই তিনজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনাটি কেবল তিনটি আসনের প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি খালেদা-পরবর্তী যুগে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলটি কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে পরীক্ষা করে নিচ্ছে।
প্রথমত, এটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় পরীক্ষা। দূর থেকে তিনি কীভাবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখছেন এবং সংকটময় মুহূর্তে সঠিক প্রার্থী বাছাই করছেন, তার ওপর দলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। রফিকুল আলম মজনুর মতো সংগঠক, মোরশেদ আলমের মতো তৃণমূলের নেতা এবং সৈয়দ জাহাঙ্গীরের মতো জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি—এই তিন ধরনের নেতার মিশ্রণ প্রমাণ করে যে, দল বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করছে।
দ্বিতীয়ত, এটি বিএনপির তৃণমূলের শক্তির পরীক্ষা। বেগম জিয়ার ছবি ও নাম ছাড়া বিএনপির কর্মীরা কতটা সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারে এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পারে, তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি লিটমাস টেস্ট, যা দেখিয়ে দেবে দলটি কতটা ব্যক্তি-নির্ভর আর কতটা সংগঠন-নির্ভর।
সবশেষে, এই নির্বাচনগুলো বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিতও দেবে। যদি এই তিন প্রার্থী সফল হতে পারেন, তবে তাঁরা জাতীয় রাজনীতিতে তো বটেই, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন। তাঁদের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করে বিএনপি আগামী দিনে প্রার্থী বাছাই এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হতে পারে।
বেগম খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে বিএনপির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু রাজনীতি কখনো থেমে থাকে না। তাঁর রেখে যাওয়া তিনটি আসনে রফিকুল আলম মজনু, মোরশেদ আলম এবং সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একজন কেন্দ্রীয় সংগঠক, একজন তৃণমূলের শক্তিশালী নেতা এবং একজন জনপ্রিয় সাবেক মেয়র—এই তিনজন কি পারবেন বেগম জিয়ার বিশাল উত্তরাধিকারকে সামনে এগিয়ে নিতে? তাঁরা কি পারবেন দলের আস্থার প্রতিদান দিয়ে এই কঠিন সময়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে?
এর উত্তর সময়ই দেবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—এই নির্বাচনগুলো কেবল তিনটি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং এটি হতে যাচ্ছে খালেদা-বিহীন বিএনপির ভবিষ্যৎ পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এই তিন প্রার্থীর মধ্যে কাকে আপনার সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে হয়? ফেনী-১, বগুড়া-৭, নাকি দিনাজপুর-৩, কোন আসনে বিএনপি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানান। বাংলাদেশের রাজনীতির এমন সব গভীর এবং বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জানুয়ারি ২০২৬
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, অর্থাৎ বিএনপির জন্য দিনটি একই সাথে শোক এবং এক নতুন যুগের সূচনার। এদিন সকালেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দলের চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের রাজনীতির এক কিংবদন্তী চরিত্র বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর এই চলে যাওয়ায় শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়েরই সমাপ্তি ঘটেনি, জন্ম দিয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার, বিশেষ করে তাঁর নিজের নির্বাচনী আসনগুলোকে ঘিরে।
কিন্তু শোকের এই আবহেই রাজনীতির মাঠে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বেগম জিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনটি সংসদীয় আসনের ভবিষ্যৎ কী? কে ধরবেন এই আসনগুলোতে বিএনপির হাল? একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ডামাডোল, অন্যদিকে দলের সবচেয়ে বড় তারকার বিদায়—সবকিছু মিলিয়ে এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পর্দার আড়ালে বিএনপি যে তিনজন নেতাকে এই গুরুদায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করছে, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় ও শক্তি-দুর্বলতা নিয়েই আমাদের আজকের বিশ্লেষণ। এই তিন নেতা কি পারবেন বেগম জিয়ার রেখে যাওয়া বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে? চলুন, পর্দার আড়ালের সেই সম্ভাব্য নতুন মুখগুলোর পরিচয় জেনে নেওয়া যাক।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে রাজনীতিতে এলেও বেগম খালেদা জিয়ার পথচলা ছিল বর্ণাঢ্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দেশনেত্রী হিসেবে। তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া এবং কয়েক দশক ধরে বিএনপির মতো বড় একটি দলকে নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। তাই তাঁর মৃত্যু কেবল আবেগগত শূন্যতা নয়, এটি বিএনপির জন্য এক বিরাট কৌশলগত ধাক্কা।
এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন—ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩। ফেনী-১ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূতিকাগার, যেখান থেকে তিনি বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। বগুড়া-৭ কেবল তাঁর আসনই নয়, এটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি আবেগঘন এলাকা, যা বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আর দিনাজপুর-৩ আসনের সাথেও জড়িয়ে আছে তাঁর ও তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস।
জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে, আইনি বাধ্যবাধকতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখে বিএনপিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাইকমান্ড এই সংকটময় মুহূর্তে কাদের ওপর আস্থা রাখছে, তা এখন জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। এই সিদ্ধান্ত শুধু তিনটি আসনের ভাগ্যই নির্ধারণ করবে না, বরং এটি হতে যাচ্ছে খালেদা-পরবর্তী যুগে বিএনপির নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।
ফেনী-১ এর নতুন কান্ডারী: রফিকুল আলম মজনু)
বেগম জিয়ার রাজনৈতিক উত্থানের সাক্ষী ফেনী-১ আসন। পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন কয়েক দশক ধরে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে বিএনপির একটি নিশ্চিত আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর এই হেভিওয়েট আসনে দল যাঁকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে, তিনি হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু।
রফিকুল আলম মজনুর পরিচয় শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক নয়; তিনি ফেনী-১ আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা মজনু সময়ের সাথে সাথে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, বিশেষ করে ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ও কর্মীদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফেনীর স্থানীয় রাজনীতির সাথে তাঁর সংযোগ কতটা গভীর?
জানা যায়, রফিকুল আলম মজনু দীর্ঘদিন ধরেই ফেনীর নেতাকর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলেন। বেগম জিয়ার অসুস্থতার সময় তিনি নিজ এলাকা ফুলগাজীতে একাধিক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও তিনি নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা তাঁকে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত করে তুলেছে।
তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তিনি দলের হাইকমান্ড, বিশেষ করে তারেক রহমানের একজন অনুগত নেতা। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর খ্যাতি এবং ঢাকার মতো জটিল রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে কাজের জন্য প্রস্তুত করেছে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ফেনী-১-এর ভোটাররা কয়েক দশক ধরে বেগম জিয়াকে ভোট দিয়ে অভ্যস্ত। মজনুর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, বেগম জিয়ার সেই ব্যক্তিগত ভোটব্যাংককে নিজের পক্ষে ধরে রাখা। তিনি কি পারবেন কেবল দলীয় প্রতীক আর সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে সেই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে? উত্তর জানতে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
৩: বগুড়ার দুর্গ রক্ষায় মোরশেদ আলম (মিল্টন))
বগুড়াকে বলা হয় বিএনপির প্রাণকেন্দ্র। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় এই জেলার প্রতিটি আসনই বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগের। এর মধ্যে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর) আসনটি বেগম জিয়ার অন্যতম প্রধান নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার মানুষ জিয়া পরিবারকে নিজেদেরই অংশ মনে করে। এই দুর্গ রক্ষার জন্য বেগম জিয়ার বিকল্প হিসেবে বিএনপি আস্থা রেখেছে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমের ওপর, যিনি স্থানীয়ভাবে মিল্টন নামেই বেশি পরিচিত।
মোরশেদ আলম এই এলাকার 'ভূমিপুত্র'। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনটাই আবর্তিত হয়েছে গাবতলী আর বগুড়ার রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। একজন নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের সাথে তাঁর সরাসরি সংযোগ আছে, যা জাতীয় নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর। তিনি শুধু দলীয় পদেই সীমাবদ্ধ নন, ব্যক্তিগতভাবেও এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত এবং সম্মানিত মুখ।
তাঁর প্রধান শক্তি হলো তাঁর শক্তিশালী স্থানীয় ভিত্তি। তিনি বগুড়া-৭ আসনের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নের রাজনৈতিক সমীকরণ খুব ভালোভাবে বোঝেন। জিয়া পরিবারের প্রতি এখানকার মানুষের আবেগকে ভোটে রূপান্তরিত করার কৌশল তিনি জানেন। তবে চ্যালেঞ্জটাও এখানেই। শোনা যায়, এই আসন থেকে প্রায় ৪০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, যা প্রমাণ করে এই আসনের গুরুত্ব কতটা তীব্র। মোরশেদ আলমকে প্রার্থী করার পর দলের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পুরোপুরি পাশে পাওয়া এবং তাঁদের সমর্থন আদায় করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাঁকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি কেবল একজন স্থানীয় নেতাই নন, জিয়া পরিবারের রেখে যাওয়া এই আমানত রক্ষা করার যোগ্য সেনাপতিও বটে।
৪: দিনাজপুরের কৌশলগত পছন্দ: সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম)
ফেনী এবং বগুড়ার মতো দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনটি বিএনপির নিশ্চিত দুর্গ না হলেও, এর একটি কৌশলগত এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। বেগম জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একবার এই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাঁর বোন, প্রয়াত খুরশিদ জাহান হক (চকলেট আপা) ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন, যা জিয়া পরিবারের সাথে এই আসনের একটি পুরোনো সংযোগ তৈরি করেছে। এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসনে বেগম জিয়ার বিকল্প হিসেবে দল মনোনয়ন দিয়েছে দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নকে অনেকেই একটি মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখছেন। তিনি টানা তিনবার দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও তাঁর একটি শক্তিশালী ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। শহরের মেয়র হিসেবে কাজ করার সুবাদে দিনাজপুর সদর আসনের ভোটারদের একটি বড় অংশের সাথে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আইনগত জটিলতা এড়াতে কিংবা একজন শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী হিসেবেই তাঁকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর তিনিই এখন এই আসনের মূল প্রার্থী। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং প্রমাণিত নির্বাচনী সাফল্য। যেখানে অন্য প্রার্থীরা মূলত দলের ভোটের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন, সেখানে জাহাঙ্গীর আলম নিজের ব্যক্তিগত ভোটব্যাংককেও কাজে লাগাতে পারবেন।
তবে তাঁর চ্যালেঞ্জ হলো, দিনাজপুর-৩ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসন। এখানে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমকে তাই কেবল বিএনপির ভোটই নয়, বরং সাধারণ ও ভাসমান ভোটারদেরও সমর্থন আদায় করতে হবে, যা তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই তিনজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনাটি কেবল তিনটি আসনের প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি খালেদা-পরবর্তী যুগে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলটি কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে পরীক্ষা করে নিচ্ছে।
প্রথমত, এটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় পরীক্ষা। দূর থেকে তিনি কীভাবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখছেন এবং সংকটময় মুহূর্তে সঠিক প্রার্থী বাছাই করছেন, তার ওপর দলের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। রফিকুল আলম মজনুর মতো সংগঠক, মোরশেদ আলমের মতো তৃণমূলের নেতা এবং সৈয়দ জাহাঙ্গীরের মতো জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি—এই তিন ধরনের নেতার মিশ্রণ প্রমাণ করে যে, দল বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করছে।
দ্বিতীয়ত, এটি বিএনপির তৃণমূলের শক্তির পরীক্ষা। বেগম জিয়ার ছবি ও নাম ছাড়া বিএনপির কর্মীরা কতটা সংগঠিতভাবে কাজ করতে পারে এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পারে, তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি লিটমাস টেস্ট, যা দেখিয়ে দেবে দলটি কতটা ব্যক্তি-নির্ভর আর কতটা সংগঠন-নির্ভর।
সবশেষে, এই নির্বাচনগুলো বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিতও দেবে। যদি এই তিন প্রার্থী সফল হতে পারেন, তবে তাঁরা জাতীয় রাজনীতিতে তো বটেই, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাবশালী হয়ে উঠবেন। তাঁদের সাফল্য বা ব্যর্থতার ওপর নির্ভর করে বিএনপি আগামী দিনে প্রার্থী বাছাই এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হতে পারে।
বেগম খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে বিএনপির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কিন্তু রাজনীতি কখনো থেমে থাকে না। তাঁর রেখে যাওয়া তিনটি আসনে রফিকুল আলম মজনু, মোরশেদ আলম এবং সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একজন কেন্দ্রীয় সংগঠক, একজন তৃণমূলের শক্তিশালী নেতা এবং একজন জনপ্রিয় সাবেক মেয়র—এই তিনজন কি পারবেন বেগম জিয়ার বিশাল উত্তরাধিকারকে সামনে এগিয়ে নিতে? তাঁরা কি পারবেন দলের আস্থার প্রতিদান দিয়ে এই কঠিন সময়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে?
এর উত্তর সময়ই দেবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—এই নির্বাচনগুলো কেবল তিনটি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং এটি হতে যাচ্ছে খালেদা-বিহীন বিএনপির ভবিষ্যৎ পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এই তিন প্রার্থীর মধ্যে কাকে আপনার সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে হয়? ফেনী-১, বগুড়া-৭, নাকি দিনাজপুর-৩, কোন আসনে বিএনপি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানান। বাংলাদেশের রাজনীতির এমন সব গভীর এবং বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

আপনার মতামত লিখুন