ডি এস কে টিভি চ্যানেল
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

অন্যের জন্য ফাঁদ তৈরির সময় প্রাণ গেল ইসরায়েলি সেনার

অন্যের জন্য ফাঁদ তৈরির সময় প্রাণ গেল ইসরায়েলি সেনার
ঘটনার কেন্দ্রস্থল দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহর। গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ আর হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর লড়াইটা চলছে এখানেই। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আইডিএফের প্রধান টার্গেটগুলোর একটি ছিল এই শহর। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, খান ইউনিস হামাসের এক বিরাট ঘাঁটি, আর এর নিচে রয়েছে সুড়ঙ্গের এক বিশাল জাল, যা তাদের সামরিক কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র। এমনই এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অভিযান চালাচ্ছিল ইসরায়েলের অন্যতম সেরা পদাতিক ইউনিট, গোলানি ব্রিগেড। এই ব্রিগেডের সেনাদের আইডিএফের সেরা যোদ্ধাদের মধ্যে গণ্য করা হয় এবং তাদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে পাঠানো হয়। এইরকমই একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ২১ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন রেই বিরান। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শোরাশিম শহরের এই তরুণ অফিসার খান ইউনিসের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তার দলকে না করছিলেন। তাদের মিশনটা ছিল একদম পরিষ্কার – হামাস ব্যবহার করতে পারে, এমন সন্দেহজনক বাড়ি খুঁজে বের করে ধ্বংস করে দেওয়া। যুদ্ধের একটা সাধারণ কৌশল হলো, শত্রুরা যাতে কোনো পরিত্যক্ত বাড়িকে আশ্রয় বা আক্রমণের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। এই কাজটা করার জন্য আইডিএফ প্রায়ই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। ক্যাপ্টেন বিরান আর তার দলের ওপর ঠিক এই কঠিন দায়িত্বটাই দেওয়া হয়েছিল—আর ঝুঁকি জেনেও তাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছিল। সেকশন ২: মারাত্মক সেই অভিযান ও একটি ভুলের পরিণতি সেদিন ক্যাপ্টেন বিরান তার দলকে নিয়ে ঢোকেন খান ইউনিসের এক নির্দিষ্ট এলাকায়। তাদের ওপর দায়িত্ব ছিল একটা পরিত্যক্ত বাড়িকে বিস্ফোরক দিয়ে ভরে ফেলার। মিলিটারি ভাষায় একে বলে 'বুবি ট্র্যাপিং' বা ফাঁদ পাতা। পরিকল্পনা ছিল, বাড়িটাকে এমনভাবে বিস্ফোরক দিয়ে সাজানো হবে, যাতে পরে নিরাপদে এটিকে উড়িয়ে দেওয়া যায়, অথবা কোনো শত্রুসেনা ঢুকলে যেন নিজে থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। এই কাজটা করতে হয় অসম্ভব দক্ষতার সাথে। সামান্য একটা ভুল বা একটু অন্যমনস্ক হলেই ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপদ। সেনারা খুব সাবধানে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় মাইন পাতছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলছিল এই বিপজ্জনক কাজ। আইডিএফের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, সেনারা সফলভাবেই বিস্ফোরক পাতার কাজ শেষ করেছিলেন। কিন্তু আসল ট্র্যাজেডিটা ঘটে এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর। যখন সেনারা এলাকা সুরক্ষিত করার পরবর্তী ধাপে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ঘটে সেই অকল্পনীয় ঘটনা। যে বাড়িটিকে তারা একটু আগেই বিস্ফোরক দিয়ে সাজিয়ে এসেছিলেন, সেটি হঠাৎ এক প্রচণ্ড শব্দে ফেটে পড়ে। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর ধ্বংসাবশেষ আর স্প্লিন্টার ছিটকে এসে আশপাশে থাকা সেনাদের ওপর পড়ে। এই আকস্মিক বিস্ফোরণের শিকার হন ক্যাপ্টেন রেই বিরান। স্প্লিন্টারের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। যে ফাঁদ তিনি অন্যের জন্য পেতেছিলেন, সেই ফাঁদই তার প্রাণ কেড়ে নিল। তার পরিবার এই খবরে ভেঙে পড়েছে। বিরানের চাচী, ওরনা, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "রেই শুধু একজন সেনা অফিসার ছিল না, ও ছিল আমাদের অনুপ্রেরণা—একজন নিবেদিতপ্রাণ, নীতিবান আর ভালোবাসায় ভরা তরুণ। ওর হাসি আর আন্তরিকতা সবাইকে ছুঁয়ে যেত।" এই কথাগুলোই বুঝিয়ে দেয়, যুদ্ধের খাতার প্রতিটি মৃত্যু আসলে একেকটি পরিবারকে কতটা গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয়। সেকশন ৩: ভাগ্যের পরিহাস ও তার বিশ্লেষণ ক্যাপ্টেন রেই বিরানের মৃত্যু নিঃসন্দেহে ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাস। যে বিস্ফোরক শত্রুর জন্য পাতা হয়েছিল, সেটাই কেড়ে নিল নিজের সেনার প্রাণ—এই ঘটনা যুদ্ধের নিষ্ঠুরতাকে আরও একবার স্পষ্ট করে তোলে। আইডিএফ সাথে সাথেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে তারা বলছে, এটা একটা দুর্ঘটনা। কিন্তু ঠিক কী কারণে মাইনগুলো ফেটে গেল—সেটা কি কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা, ভুল কানেকশন, নাকি অন্য কিছু, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্ঘটনাকে 'অপারেশনাল অ্যাকসিডেন্ট' বলা হয়, আর এটা নতুন কিছু নয়। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজায় স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে নিহত আইডিএফ সেনাদের প্রায় ১৬ শতাংশই এমন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এর মধ্যে নিজেদের গুলিতে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) মৃত্যু যেমন আছে, তেমনই আছে বিস্ফোরক সংক্রান্ত দুর্ঘটনা। এমনকি উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়া বা নিজেদের সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়েও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই সংখ্যাগুলো একটা জিনিস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় – যুদ্ধ মানে শুধু শত্রুর সাথে লড়াই নয়, নিজের সঙ্গেও লড়াই। নিজের অস্ত্র, প্রতিকূল পরিবেশ আর মানবিক ভুলের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়। বিস্ফোরক পাতার মতো কাজগুলো সেনাবাহিনীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোর একটি। এখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। এক মুহূর্তের অমনোযোগিতা বা সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটিই জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে দেয়াল তুলে দিতে পারে। ক্যাপ্টেন বিরানের ঘটনা সেই কঠিন বাস্তবতারই এক মর্মান্তিক প্রমাণ। সেকশন ৪: বৃহত্তর চিত্র: একটি মৃত্যুর পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি ক্যাপ্টেন রেই বিরানের মৃত্যুটা শুধু একটা সংখ্যা নয়; এটা গাজায় চলতে থাকা এক দীর্ঘ আর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটা অংশ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৮৮ জনেরও বেশি ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শুধু স্থল অভিযানেই প্রাণ গেছে ৪৪৪ জনের বেশি। আর যখনই কোনো সেনা মারা যায়, তার প্রভাব গিয়ে পড়ে পুরো ইজরায়েলের সমাজ আর রাজনীতির ওপর। ইসরায়েল যেহেতু ছোট দেশ, তাই প্রায় প্রত্যেক পরিবারেই কেউ না কেউ সেনাবাহিনীতে আছে বা ছিল। ফলে একজন সেনার মৃত্যু পুরো দেশের কাছেই একটা জাতীয় ট্র্যাজেডির মতো। এই ধরনের ঘটনা সরকারের ওপর  চাপ তৈরি করে। যুদ্ধের কৌশল, এর মানবিক মূল্য—সবকিছু নিয়েই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে। বিরোধী দলগুলোও সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা শুরু করে। এমনকি, সেনাবাহিনীর মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে। যেমন, কিছুদিন আগেই গোলানি ব্রিগেডের ১৫০ জন সেনা যুদ্ধ থামিয়ে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে একটি চিঠিতে সই করেছিলেন, যা থেকে ভেতরের চাপটা স্পষ্ট বোঝা যায়। এই ঘটনাগুলো ইসরায়েলের সামরিক কৌশলকেও প্রভাবিত করে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি বসে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য নতুন নিয়মকানুন তৈরি করা হয়। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে, যেখানে পদে পদে বিপদ লুকিয়ে থাকে, সেখানে সব ঝুঁকি এড়ানো প্রায় অসম্ভব। বিরানের মতো তরুণ অফিসারদের মৃত্যু সেই কঠিন সত্যিটাকেই বারবার মনে করিয়ে দিয়ে যায়। সেকশন ৫: সৈন্যদের মানসিক চাপ ও যুদ্ধের বাস্তবতা আমরা যখন যুদ্ধের কথা বলি, তখন ট্যাঙ্ক, মিসাইল, আর বড় বড় পরিকল্পনার কথাই বেশি শোনা যায়। কিন্তু এই সবকিছুর আড়ালে যে মানুষগুলো লড়ছে, তাদের ভয়, ক্লান্তি আর মানসিক চাপের গল্পটা প্রায়ই হারিয়ে যায়। ক্যাপ্টেন রেই বিরানের মতো ২১ বছর বয়সী একজন তরুণের কাঁধে কী বিশাল দায়িত্ব ছিল, তা ভাবা কঠিন। যে বয়সে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কথা বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার কথা, সেই বয়সে তাকে একদল সেনাকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছিল শত্রুপুরীতে। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সেনাকে প্রতি মুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একদিকে শত্রুর হামলার ভয়, অন্যদিকে নিজের সামান্য ভুলে সতীর্থের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা—এই দ্বিমুখী চাপের মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়। বিস্ফোরক পাতার মতো একটা কাজে যে পরিমাণ স্থিরতা আর মনোযোগ লাগে, তা ধরে রাখা ভাবে কঠিন। একটানা অভিযান, কম ঘুম, আর পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট—সব মিলিয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। বিশেষ করে, যখন নিজের

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


অন্যের জন্য ফাঁদ তৈরির সময় প্রাণ গেল ইসরায়েলি সেনার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৫

featured Image
ঘটনার কেন্দ্রস্থল দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহর। গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ আর হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর লড়াইটা চলছে এখানেই। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আইডিএফের প্রধান টার্গেটগুলোর একটি ছিল এই শহর। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, খান ইউনিস হামাসের এক বিরাট ঘাঁটি, আর এর নিচে রয়েছে সুড়ঙ্গের এক বিশাল জাল, যা তাদের সামরিক কার্যকলাপের মূল কেন্দ্র। এমনই এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অভিযান চালাচ্ছিল ইসরায়েলের অন্যতম সেরা পদাতিক ইউনিট, গোলানি ব্রিগেড। এই ব্রিগেডের সেনাদের আইডিএফের সেরা যোদ্ধাদের মধ্যে গণ্য করা হয় এবং তাদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে পাঠানো হয়। এইরকমই একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ২১ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন রেই বিরান। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শোরাশিম শহরের এই তরুণ অফিসার খান ইউনিসের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তার দলকে না করছিলেন। তাদের মিশনটা ছিল একদম পরিষ্কার – হামাস ব্যবহার করতে পারে, এমন সন্দেহজনক বাড়ি খুঁজে বের করে ধ্বংস করে দেওয়া। যুদ্ধের একটা সাধারণ কৌশল হলো, শত্রুরা যাতে কোনো পরিত্যক্ত বাড়িকে আশ্রয় বা আক্রমণের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। এই কাজটা করার জন্য আইডিএফ প্রায়ই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। ক্যাপ্টেন বিরান আর তার দলের ওপর ঠিক এই কঠিন দায়িত্বটাই দেওয়া হয়েছিল—আর ঝুঁকি জেনেও তাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছিল। সেকশন ২: মারাত্মক সেই অভিযান ও একটি ভুলের পরিণতি সেদিন ক্যাপ্টেন বিরান তার দলকে নিয়ে ঢোকেন খান ইউনিসের এক নির্দিষ্ট এলাকায়। তাদের ওপর দায়িত্ব ছিল একটা পরিত্যক্ত বাড়িকে বিস্ফোরক দিয়ে ভরে ফেলার। মিলিটারি ভাষায় একে বলে 'বুবি ট্র্যাপিং' বা ফাঁদ পাতা। পরিকল্পনা ছিল, বাড়িটাকে এমনভাবে বিস্ফোরক দিয়ে সাজানো হবে, যাতে পরে নিরাপদে এটিকে উড়িয়ে দেওয়া যায়, অথবা কোনো শত্রুসেনা ঢুকলে যেন নিজে থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। এই কাজটা করতে হয় অসম্ভব দক্ষতার সাথে। সামান্য একটা ভুল বা একটু অন্যমনস্ক হলেই ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপদ। সেনারা খুব সাবধানে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় মাইন পাতছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলছিল এই বিপজ্জনক কাজ। আইডিএফের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, সেনারা সফলভাবেই বিস্ফোরক পাতার কাজ শেষ করেছিলেন। কিন্তু আসল ট্র্যাজেডিটা ঘটে এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর। যখন সেনারা এলাকা সুরক্ষিত করার পরবর্তী ধাপে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ঘটে সেই অকল্পনীয় ঘটনা। যে বাড়িটিকে তারা একটু আগেই বিস্ফোরক দিয়ে সাজিয়ে এসেছিলেন, সেটি হঠাৎ এক প্রচণ্ড শব্দে ফেটে পড়ে। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে এর ধ্বংসাবশেষ আর স্প্লিন্টার ছিটকে এসে আশপাশে থাকা সেনাদের ওপর পড়ে। এই আকস্মিক বিস্ফোরণের শিকার হন ক্যাপ্টেন রেই বিরান। স্প্লিন্টারের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। যে ফাঁদ তিনি অন্যের জন্য পেতেছিলেন, সেই ফাঁদই তার প্রাণ কেড়ে নিল। তার পরিবার এই খবরে ভেঙে পড়েছে। বিরানের চাচী, ওরনা, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "রেই শুধু একজন সেনা অফিসার ছিল না, ও ছিল আমাদের অনুপ্রেরণা—একজন নিবেদিতপ্রাণ, নীতিবান আর ভালোবাসায় ভরা তরুণ। ওর হাসি আর আন্তরিকতা সবাইকে ছুঁয়ে যেত।" এই কথাগুলোই বুঝিয়ে দেয়, যুদ্ধের খাতার প্রতিটি মৃত্যু আসলে একেকটি পরিবারকে কতটা গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয়। সেকশন ৩: ভাগ্যের পরিহাস ও তার বিশ্লেষণ ক্যাপ্টেন রেই বিরানের মৃত্যু নিঃসন্দেহে ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাস। যে বিস্ফোরক শত্রুর জন্য পাতা হয়েছিল, সেটাই কেড়ে নিল নিজের সেনার প্রাণ—এই ঘটনা যুদ্ধের নিষ্ঠুরতাকে আরও একবার স্পষ্ট করে তোলে। আইডিএফ সাথে সাথেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে তারা বলছে, এটা একটা দুর্ঘটনা। কিন্তু ঠিক কী কারণে মাইনগুলো ফেটে গেল—সেটা কি কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা, ভুল কানেকশন, নাকি অন্য কিছু, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্ঘটনাকে 'অপারেশনাল অ্যাকসিডেন্ট' বলা হয়, আর এটা নতুন কিছু নয়। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজায় স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে নিহত আইডিএফ সেনাদের প্রায় ১৬ শতাংশই এমন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এর মধ্যে নিজেদের গুলিতে (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) মৃত্যু যেমন আছে, তেমনই আছে বিস্ফোরক সংক্রান্ত দুর্ঘটনা। এমনকি উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়া বা নিজেদের সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়েও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই সংখ্যাগুলো একটা জিনিস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় – যুদ্ধ মানে শুধু শত্রুর সাথে লড়াই নয়, নিজের সঙ্গেও লড়াই। নিজের অস্ত্র, প্রতিকূল পরিবেশ আর মানবিক ভুলের বিরুদ্ধেও লড়তে হয়। বিস্ফোরক পাতার মতো কাজগুলো সেনাবাহিনীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলোর একটি। এখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। এক মুহূর্তের অমনোযোগিতা বা সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটিই জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে দেয়াল তুলে দিতে পারে। ক্যাপ্টেন বিরানের ঘটনা সেই কঠিন বাস্তবতারই এক মর্মান্তিক প্রমাণ। সেকশন ৪: বৃহত্তর চিত্র: একটি মৃত্যুর পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি ক্যাপ্টেন রেই বিরানের মৃত্যুটা শুধু একটা সংখ্যা নয়; এটা গাজায় চলতে থাকা এক দীর্ঘ আর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটা অংশ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৮৮ জনেরও বেশি ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শুধু স্থল অভিযানেই প্রাণ গেছে ৪৪৪ জনের বেশি। আর যখনই কোনো সেনা মারা যায়, তার প্রভাব গিয়ে পড়ে পুরো ইজরায়েলের সমাজ আর রাজনীতির ওপর। ইসরায়েল যেহেতু ছোট দেশ, তাই প্রায় প্রত্যেক পরিবারেই কেউ না কেউ সেনাবাহিনীতে আছে বা ছিল। ফলে একজন সেনার মৃত্যু পুরো দেশের কাছেই একটা জাতীয় ট্র্যাজেডির মতো। এই ধরনের ঘটনা সরকারের ওপর  চাপ তৈরি করে। যুদ্ধের কৌশল, এর মানবিক মূল্য—সবকিছু নিয়েই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে। বিরোধী দলগুলোও সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা শুরু করে। এমনকি, সেনাবাহিনীর মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে। যেমন, কিছুদিন আগেই গোলানি ব্রিগেডের ১৫০ জন সেনা যুদ্ধ থামিয়ে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে একটি চিঠিতে সই করেছিলেন, যা থেকে ভেতরের চাপটা স্পষ্ট বোঝা যায়। এই ঘটনাগুলো ইসরায়েলের সামরিক কৌশলকেও প্রভাবিত করে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি বসে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য নতুন নিয়মকানুন তৈরি করা হয়। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে, যেখানে পদে পদে বিপদ লুকিয়ে থাকে, সেখানে সব ঝুঁকি এড়ানো প্রায় অসম্ভব। বিরানের মতো তরুণ অফিসারদের মৃত্যু সেই কঠিন সত্যিটাকেই বারবার মনে করিয়ে দিয়ে যায়। সেকশন ৫: সৈন্যদের মানসিক চাপ ও যুদ্ধের বাস্তবতা আমরা যখন যুদ্ধের কথা বলি, তখন ট্যাঙ্ক, মিসাইল, আর বড় বড় পরিকল্পনার কথাই বেশি শোনা যায়। কিন্তু এই সবকিছুর আড়ালে যে মানুষগুলো লড়ছে, তাদের ভয়, ক্লান্তি আর মানসিক চাপের গল্পটা প্রায়ই হারিয়ে যায়। ক্যাপ্টেন রেই বিরানের মতো ২১ বছর বয়সী একজন তরুণের কাঁধে কী বিশাল দায়িত্ব ছিল, তা ভাবা কঠিন। যে বয়সে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কথা বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার কথা, সেই বয়সে তাকে একদল সেনাকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছিল শত্রুপুরীতে। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সেনাকে প্রতি মুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একদিকে শত্রুর হামলার ভয়, অন্যদিকে নিজের সামান্য ভুলে সতীর্থের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা—এই দ্বিমুখী চাপের মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়। বিস্ফোরক পাতার মতো একটা কাজে যে পরিমাণ স্থিরতা আর মনোযোগ লাগে, তা ধরে রাখা ভাবে কঠিন। একটানা অভিযান, কম ঘুম, আর পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট—সব মিলিয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। বিশেষ করে, যখন নিজের

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল