ডি এস কে টিভি চ্যানেল

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা: এক গ্রামের মানুষজন যেন মৃত্যুপুরীতে

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা: এক গ্রামের মানুষজন যেন মৃত্যুপুরীতে
পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা: এক গ্রামের মানুষজন যেন মৃত্যুপুরীতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পাহাড়ি জেলা বুনেরে আকস্মিক বন্যা কয়েক মুহূর্তেই বদলে দিয়েছে একটি পুরো গ্রামের চিত্র। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বেশন্ত্রি গ্রামটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মুহূর্তেই ভেসে যায় ঘরবাড়ি, নিখোঁজ হয়ে যায় শতাধিক নারী-শিশু ও বৃদ্ধ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ প্রদেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বুনার, সোয়াত ও বাজাউরেই নিহত হয়েছেন ৩০৭ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন। ইমাম সামাদের মর্মস্পর্শী গল্প বেশন্ত্রি গ্রামের স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সামাদ নামাজে ছিলেন যখন হঠাৎ খবর পান বন্যার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের পরিবারকেও দ্রুত ঘর ছেড়ে নিরাপদে যেতে বলেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পর নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন—তার ঘরসহ পুরো গ্রাম পানির স্রোতে নিশ্চিহ্ন। সামাদের পরিবারের পাঁচজন সদস্য সেদিন ঘরে ছিলেন। সবাই পানির তোড়ে ভেসে গেছেন। এখনও কারও খোঁজ মেলেনি। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশফাক আহমদের ট্র্যাজেডি পীর বাবা সাহেব উপজেলার সাবেক তহসিল নাজিম আশফাক আহমদ বন্যার সময় ছিলেন ইসলামাবাদে। তিনি খবর পেয়ে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। বাড়ি পৌঁছে দেখেন—চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তুপ। তার পরিবারে সে সময় ১৪ জন ছিলেন। চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা গেলেও বাকি ১০ জন এখনও নিখোঁজ। মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয়া গ্রাম স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর ইসলাম ও প্রবাস থেকে ফেরা মুহাম্মদ ইসলাম দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান। নূর ইসলাম জানান, দুপুরে গ্রামে পৌঁছেই তিনি দেখেন—একটিও ঘর অক্ষত নেই। বিকেল পর্যন্ত অসংখ্য জানাজায় অংশ নিতে হয়েছে, নিজ হাতে খুঁড়েছেন ছয়টি কবর। মুহম্মদ ইসলাম বলেন, “বিকেল আড়াইটায় গ্রামে গিয়ে দেখি চারদিকে কেবল ধ্বংস। কোথাও মানুষ নেই, কেবল লাশ আর আহতদের আর্তনাদ। মনে হচ্ছিল গ্রামটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।” নারী ও শিশুরাই বেশি নিখোঁজ উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, বুনারের বেশন্ত্রি গ্রামে প্রায় এক হাজার মানুষ বসবাস করতেন। বন্যার পর পরিবার হারানোর হাহাকার এখন প্রায় প্রতিটি ঘরে। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। অনেকে গাছে উঠে প্রাণ বাঁচালেও শত শত মানুষ পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। উদ্ধার তৎপরতা ও সংকট রেসকিউ ১১২২ বুনারের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, রাতভর দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও উদ্ধারকাজ চলছে। একের পর এক লাশ উদ্ধার হচ্ছে, আহতদের নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বুনার, বাজাউর ও বটগ্রাম। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। শোক ও শূন্যতায় গ্রামবাসী বেশন্ত্রি গ্রামের মানুষ এখনো প্রিয়জনদের খুঁজে ফিরছে। মৃতদের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করতে পাশের গ্রাম থেকে মানুষ এসে সহায়তা করছে। স্থানীয়দের ভাষায়—“এমন দৃশ্য আগে কোনোদিন দেখা যায়নি। প্রতিটি ঘরে মৃত্যু, প্রতিটি রাস্তায় কান্না।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা: এক গ্রামের মানুষজন যেন মৃত্যুপুরীতে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৫

featured Image
পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা: এক গ্রামের মানুষজন যেন মৃত্যুপুরীতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পাহাড়ি জেলা বুনেরে আকস্মিক বন্যা কয়েক মুহূর্তেই বদলে দিয়েছে একটি পুরো গ্রামের চিত্র। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বেশন্ত্রি গ্রামটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মুহূর্তেই ভেসে যায় ঘরবাড়ি, নিখোঁজ হয়ে যায় শতাধিক নারী-শিশু ও বৃদ্ধ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ প্রদেশে গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বুনার, সোয়াত ও বাজাউরেই নিহত হয়েছেন ৩০৭ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন। ইমাম সামাদের মর্মস্পর্শী গল্প বেশন্ত্রি গ্রামের স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সামাদ নামাজে ছিলেন যখন হঠাৎ খবর পান বন্যার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের পরিবারকেও দ্রুত ঘর ছেড়ে নিরাপদে যেতে বলেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পর নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন—তার ঘরসহ পুরো গ্রাম পানির স্রোতে নিশ্চিহ্ন। সামাদের পরিবারের পাঁচজন সদস্য সেদিন ঘরে ছিলেন। সবাই পানির তোড়ে ভেসে গেছেন। এখনও কারও খোঁজ মেলেনি। সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশফাক আহমদের ট্র্যাজেডি পীর বাবা সাহেব উপজেলার সাবেক তহসিল নাজিম আশফাক আহমদ বন্যার সময় ছিলেন ইসলামাবাদে। তিনি খবর পেয়ে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। বাড়ি পৌঁছে দেখেন—চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তুপ। তার পরিবারে সে সময় ১৪ জন ছিলেন। চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা গেলেও বাকি ১০ জন এখনও নিখোঁজ। মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয়া গ্রাম স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর ইসলাম ও প্রবাস থেকে ফেরা মুহাম্মদ ইসলাম দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান। নূর ইসলাম জানান, দুপুরে গ্রামে পৌঁছেই তিনি দেখেন—একটিও ঘর অক্ষত নেই। বিকেল পর্যন্ত অসংখ্য জানাজায় অংশ নিতে হয়েছে, নিজ হাতে খুঁড়েছেন ছয়টি কবর। মুহম্মদ ইসলাম বলেন, “বিকেল আড়াইটায় গ্রামে গিয়ে দেখি চারদিকে কেবল ধ্বংস। কোথাও মানুষ নেই, কেবল লাশ আর আহতদের আর্তনাদ। মনে হচ্ছিল গ্রামটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।” নারী ও শিশুরাই বেশি নিখোঁজ উদ্ধারকর্মীরা জানাচ্ছেন, বুনারের বেশন্ত্রি গ্রামে প্রায় এক হাজার মানুষ বসবাস করতেন। বন্যার পর পরিবার হারানোর হাহাকার এখন প্রায় প্রতিটি ঘরে। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। অনেকে গাছে উঠে প্রাণ বাঁচালেও শত শত মানুষ পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। উদ্ধার তৎপরতা ও সংকট রেসকিউ ১১২২ বুনারের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, রাতভর দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও উদ্ধারকাজ চলছে। একের পর এক লাশ উদ্ধার হচ্ছে, আহতদের নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বুনার, বাজাউর ও বটগ্রাম। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। শোক ও শূন্যতায় গ্রামবাসী বেশন্ত্রি গ্রামের মানুষ এখনো প্রিয়জনদের খুঁজে ফিরছে। মৃতদের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করতে পাশের গ্রাম থেকে মানুষ এসে সহায়তা করছে। স্থানীয়দের ভাষায়—“এমন দৃশ্য আগে কোনোদিন দেখা যায়নি। প্রতিটি ঘরে মৃত্যু, প্রতিটি রাস্তায় কান্না।”

ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল