ডি এস কে টিভি চ্যানেল

কৌশলগত লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

একই আদর্শে এক সুতোয় গাঁথা ইরান-লেবানন-ইয়ে'মেন

  একই আদর্শে এক সুতোয় গাঁথা ইরান-লেবানন-ইয়ে'মেন

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন—এই তিনটি অঞ্চলকে এখন প্রায়ই একই সুতোয় গাঁথা শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই তিন জায়গার কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী একই আদর্শ ও কৌশলগত লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চায়, বিশেষ করে এমন সব শক্তির মাধ্যমে যারা পশ্চিমা প্রভাব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল-এর বিরোধিতা করে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইরান সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে “প্রক্সি” বা সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

লেবাননে এই ভূমিকা পালন করছে হিজবুল্লাহ—একটি শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন, যা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরে তারা শুধু লেবাননের রাজনীতিতেই নয়, বরং ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে সামরিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনে সক্রিয় হুথি আন্দোলন—যারা দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে একটি বড় পক্ষ। এই গোষ্ঠীও ইরানের সমর্থন পায় বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তারা প্রায়ই সৌদি আরব ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, যা আঞ্চলিক রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই তিন শক্তির মধ্যে মিলের জায়গা শুধু রাজনৈতিক নয়, আদর্শগতও। তারা সবাই পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতা, ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নিজেদের আঞ্চলিক ক্ষমতা বৃদ্ধি—এই লক্ষ্যগুলোকে গুরুত্ব দেয়। ফলে অনেক বিশ্লেষক এই সম্পর্ককে একটি “অক্ষ” বা জোট হিসেবেও দেখেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তবে বিষয়টি একেবারে সরল নয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব বাস্তবতা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তবুও, ইরান, লেবানন ও ইয়েমেনের এই সংযোগ বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাত বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


একই আদর্শে এক সুতোয় গাঁথা ইরান-লেবানন-ইয়ে'মেন

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন—এই তিনটি অঞ্চলকে এখন প্রায়ই একই সুতোয় গাঁথা শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই তিন জায়গার কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী একই আদর্শ ও কৌশলগত লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চায়, বিশেষ করে এমন সব শক্তির মাধ্যমে যারা পশ্চিমা প্রভাব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল-এর বিরোধিতা করে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইরান সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে “প্রক্সি” বা সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

লেবাননে এই ভূমিকা পালন করছে হিজবুল্লাহ—একটি শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন, যা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। বহু বছর ধরে তারা শুধু লেবাননের রাজনীতিতেই নয়, বরং ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে সামরিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনে সক্রিয় হুথি আন্দোলন—যারা দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে একটি বড় পক্ষ। এই গোষ্ঠীও ইরানের সমর্থন পায় বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তারা প্রায়ই সৌদি আরব ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, যা আঞ্চলিক রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই তিন শক্তির মধ্যে মিলের জায়গা শুধু রাজনৈতিক নয়, আদর্শগতও। তারা সবাই পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতা, ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নিজেদের আঞ্চলিক ক্ষমতা বৃদ্ধি—এই লক্ষ্যগুলোকে গুরুত্ব দেয়। ফলে অনেক বিশ্লেষক এই সম্পর্ককে একটি “অক্ষ” বা জোট হিসেবেও দেখেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

তবে বিষয়টি একেবারে সরল নয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব বাস্তবতা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। তবুও, ইরান, লেবানন ও ইয়েমেনের এই সংযোগ বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাত বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল