আজিমপুর ডে-কেয়ার সেন্টারে অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের পপ্তির দাবিতে
সংবাদ সম্মেলন
সময়: ৫ এপ্রিল, রোববার, বেলা: ১২টা
স্থান: বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তন (নীচতলা)।
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম,
আজ অনেক কষ্ট ও যন্ত্রণাকে বুকে নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমি হাকিবুল হাসান তালুকদার, পিতা: শাহজাহান তালুকদার, ঠিকানা: গ্রাম: নওয়া, উপজেলা: তারাকান্দা, জেলা।
ময়মনসিংহ। আমি ও আমার স্ত্রী ইসমত আরা তালুকদার চাকুরিজীবী হওয়ায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বাসায় অন্য কেউ না থাকায় আমাদের কন্যা সন্তানকে আজিমপুর মধ্যবিত্ত ডে- কেয়ার সেন্টারে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি ও সেখানে তাকে রাখতে থাকি। কিছু দিন পরই সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়। সে ঘটনায় করা মামলায় আদালত শুধুমাত্র একজনকে ছাড়া বাকী সবাইকে অব্যাহতি দেয়ার ঘটনাটি আমাদের খুবই কষ্ট দিয়েছে। ডে-কেয়ার সেন্টারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলার কারণেই আমার ১১ মাস বয়সী কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ তড়িঘড়ি করে অসম্পূর্ণ ও মনগড়া চার্জশীট দাখিল করায় এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যরা অব্যাহতি পায় বলে মনে করছি। ওই সময় ভালো কোন আইনজীবী না পাওয়ায় আমরা উক্ত চারদশীট এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, বিগত ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রতিদিনকার মত আমার শিশু কন্যা উম্মে আলিফকে সকাল ১০টার দিকে আজিমপুর মধ্যবিত্ত ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে আমারা স্বামী-স্ত্রী আমার স্ত্রীর জন্য ডাক্তার দেখাতে চলে যাই। ওই
দিন দুপুর পৌনে একটার দিকে ওই সেন্টারের প্রধান রেজিনাওয়ালী আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় আমার কন্যা সন্তান অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে আজিমপুর মেটার্নিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পারলে আপনারা আসুন। এ কথা শোনামাত্র আমি দ্রুত ওই মেটার্নিতে পৌঁছে দেখি আমার কন্যাকে ওই সেন্টারের এক কর্মচারী কোলে নিয়ে রেখেছে। সে সময় দেখতে পাই তার নামে অক্সিজেনের পাইপ লাগানো রয়েছে। তাকে আমি নিজে কোলে নিতে চাইলে তারা বলে আপনার মেয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। আপনার কোলে দেয়া যাবে না। এই বলে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সাথে আমিও সেখানে যাই। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মেটার্নি থেকে রেফার্ড করার কাগজ দেখতে চাইলে আমি সেখানে উপস্থিত থাকায় তারা কাগজ দেখাতে গড়িমসি করতে থাকে। এক পর্যায়ে এক কর্মচারী রেফার্ড করার কাগজ ওই চিকিৎসকের হাতে দিতে বাধ্য হয়। তখন চিকিৎসক বলেন, আপনারাতো ওই বাচ্চাকে মৃত অবস্থায় মেটার্নিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পোস্ট মোর্টেম করার জন্য ঢামেকে পাঠিয়েছে বলে জানান। তখন আমি জানতে পারি আমার মেয়ের মৃত্যু ওই ডে-কেয়ার সেন্টারেই হয়েছে এবং তাদের গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং তারা মারা যাওয়ার কারন লুকানোর চেস্টা করতেছিলেন। এরপর এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশের কয়েকজন সদস্য বার বার বলতে থাকে বিষয়টি ডে-কেয়ার সেন্টারের লোকজনের সাথে আলাপ করে
মিটিয়ে ফেলুন। ওই দিন পুলিশ আমার মামলা না নিলে আমি বাসায় ফিরে আসি। এর পরদিন ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর পুনরায় খানায় গেলে অনেক সময় পর তারা আমার মামলাটি গ্রহণ করে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় এবং বাকীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোস্ট মোর্টেমের রিপোর্টে দেখা যায় গলায় খাদ্য আটকে আমার কন্যা উম্মে আলিফের মৃত্যু হয়েছে।
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত ওই মামলার এক আদেশ ঘোষণা করেন। আদেশে শুধুমাত্র একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে বাকী ৫ জনকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। যা আমাদের কাম্য ছিল না। এছাড়াও চার্জ শুনানীর জন্য পরপর ৩ দিন ডেট দেয়া হয় এর মধ্যে একদিন ফোন দিয়ে শুনানীতে উপস্থিত থাকার জন্য এজলাসে ডেকে নেয়া হলেও কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। অপরদিকে ওই আদালতের পিপি বলেন, তার উপর উপর মহলের চাপ রয়েছে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য। এখন আপনি কি চাইছেন সেটা বলুন। সে সময় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সন্তানের মৃত্যুর সাথে যারা যারা জড়িত তাদের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলি। কিন্তু বিচারটি কোনো ধরণের গুরুত্ব ছাড়াই চার্জ এর আদেশ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এর সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও অন্য আসামীদের অব্যাহতি দেয়া হয়।
এতে আমরা মনে করি এই অবহেলার মৃত্যুর ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচার ছাড়াই রায় ঘোষণা করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আদালতে আমরা বিচার পাইনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমার কন্যা শিশুর অবহেলায় মৃত্যুজনিত ঘটনাটির
সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ডে- কেয়ার সেন্টারে কারো সন্তানের অবহেলার কারণে মৃত্যু না হয়। এতক্ষণ ধৈর্য্য সহকারে আমার বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বিনিত নিবেদক
হাকিবুল হাসান তালুকদার, পিতা: শাহজাহান তালুকদার,
ঠিকানা: গ্রাম: নগুয়া, উপজেলা: তারাকান্দা,
জেলা: ময়মনসিংহ।
মোবাইল নং ০১৭১৫৯৫৬৭২৩

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
আজিমপুর ডে-কেয়ার সেন্টারে অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের পপ্তির দাবিতে
সংবাদ সম্মেলন
সময়: ৫ এপ্রিল, রোববার, বেলা: ১২টা
স্থান: বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তন (নীচতলা)।
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম,
আজ অনেক কষ্ট ও যন্ত্রণাকে বুকে নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমি হাকিবুল হাসান তালুকদার, পিতা: শাহজাহান তালুকদার, ঠিকানা: গ্রাম: নওয়া, উপজেলা: তারাকান্দা, জেলা।
ময়মনসিংহ। আমি ও আমার স্ত্রী ইসমত আরা তালুকদার চাকুরিজীবী হওয়ায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বাসায় অন্য কেউ না থাকায় আমাদের কন্যা সন্তানকে আজিমপুর মধ্যবিত্ত ডে- কেয়ার সেন্টারে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি ও সেখানে তাকে রাখতে থাকি। কিছু দিন পরই সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়। সে ঘটনায় করা মামলায় আদালত শুধুমাত্র একজনকে ছাড়া বাকী সবাইকে অব্যাহতি দেয়ার ঘটনাটি আমাদের খুবই কষ্ট দিয়েছে। ডে-কেয়ার সেন্টারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলার কারণেই আমার ১১ মাস বয়সী কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ তড়িঘড়ি করে অসম্পূর্ণ ও মনগড়া চার্জশীট দাখিল করায় এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যরা অব্যাহতি পায় বলে মনে করছি। ওই সময় ভালো কোন আইনজীবী না পাওয়ায় আমরা উক্ত চারদশীট এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, বিগত ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রতিদিনকার মত আমার শিশু কন্যা উম্মে আলিফকে সকাল ১০টার দিকে আজিমপুর মধ্যবিত্ত ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে আমারা স্বামী-স্ত্রী আমার স্ত্রীর জন্য ডাক্তার দেখাতে চলে যাই। ওই
দিন দুপুর পৌনে একটার দিকে ওই সেন্টারের প্রধান রেজিনাওয়ালী আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় আমার কন্যা সন্তান অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে আজিমপুর মেটার্নিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পারলে আপনারা আসুন। এ কথা শোনামাত্র আমি দ্রুত ওই মেটার্নিতে পৌঁছে দেখি আমার কন্যাকে ওই সেন্টারের এক কর্মচারী কোলে নিয়ে রেখেছে। সে সময় দেখতে পাই তার নামে অক্সিজেনের পাইপ লাগানো রয়েছে। তাকে আমি নিজে কোলে নিতে চাইলে তারা বলে আপনার মেয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। আপনার কোলে দেয়া যাবে না। এই বলে তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সাথে আমিও সেখানে যাই। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মেটার্নি থেকে রেফার্ড করার কাগজ দেখতে চাইলে আমি সেখানে উপস্থিত থাকায় তারা কাগজ দেখাতে গড়িমসি করতে থাকে। এক পর্যায়ে এক কর্মচারী রেফার্ড করার কাগজ ওই চিকিৎসকের হাতে দিতে বাধ্য হয়। তখন চিকিৎসক বলেন, আপনারাতো ওই বাচ্চাকে মৃত অবস্থায় মেটার্নিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পোস্ট মোর্টেম করার জন্য ঢামেকে পাঠিয়েছে বলে জানান। তখন আমি জানতে পারি আমার মেয়ের মৃত্যু ওই ডে-কেয়ার সেন্টারেই হয়েছে এবং তাদের গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং তারা মারা যাওয়ার কারন লুকানোর চেস্টা করতেছিলেন। এরপর এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশের কয়েকজন সদস্য বার বার বলতে থাকে বিষয়টি ডে-কেয়ার সেন্টারের লোকজনের সাথে আলাপ করে
মিটিয়ে ফেলুন। ওই দিন পুলিশ আমার মামলা না নিলে আমি বাসায় ফিরে আসি। এর পরদিন ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর পুনরায় খানায় গেলে অনেক সময় পর তারা আমার মামলাটি গ্রহণ করে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় এবং বাকীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোস্ট মোর্টেমের রিপোর্টে দেখা যায় গলায় খাদ্য আটকে আমার কন্যা উম্মে আলিফের মৃত্যু হয়েছে।
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত ওই মামলার এক আদেশ ঘোষণা করেন। আদেশে শুধুমাত্র একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে বাকী ৫ জনকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। যা আমাদের কাম্য ছিল না। এছাড়াও চার্জ শুনানীর জন্য পরপর ৩ দিন ডেট দেয়া হয় এর মধ্যে একদিন ফোন দিয়ে শুনানীতে উপস্থিত থাকার জন্য এজলাসে ডেকে নেয়া হলেও কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। অপরদিকে ওই আদালতের পিপি বলেন, তার উপর উপর মহলের চাপ রয়েছে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য। এখন আপনি কি চাইছেন সেটা বলুন। সে সময় ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সন্তানের মৃত্যুর সাথে যারা যারা জড়িত তাদের সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলি। কিন্তু বিচারটি কোনো ধরণের গুরুত্ব ছাড়াই চার্জ এর আদেশ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এর সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও অন্য আসামীদের অব্যাহতি দেয়া হয়।
এতে আমরা মনে করি এই অবহেলার মৃত্যুর ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচার ছাড়াই রায় ঘোষণা করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আদালতে আমরা বিচার পাইনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমার কন্যা শিশুর অবহেলায় মৃত্যুজনিত ঘটনাটির
সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ডে- কেয়ার সেন্টারে কারো সন্তানের অবহেলার কারণে মৃত্যু না হয়। এতক্ষণ ধৈর্য্য সহকারে আমার বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বিনিত নিবেদক
হাকিবুল হাসান তালুকদার, পিতা: শাহজাহান তালুকদার,
ঠিকানা: গ্রাম: নগুয়া, উপজেলা: তারাকান্দা,
জেলা: ময়মনসিংহ।
মোবাইল নং ০১৭১৫৯৫৬৭২৩

আপনার মতামত লিখুন