ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

শোক আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো সুনামগঞ্জ জেলা।

ভিটেমাটিও গেল, সঙ্গে ১৮ লাখ টাকা — সন্তান হারালেও লা'শ পাবেন না দুলন মিয়া

ভিটেমাটিও গেল, সঙ্গে ১৮ লাখ টাকা — সন্তান হারালেও লা'শ পাবেন না দুলন মিয়া

ভিটেমাটিও গেল, সঙ্গে ১৮ লাখ টাকা — সন্তান হারালেও লাশ পাবেন না দুলন মিয়া ????????

ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে আবারও প্রাণ হারালেন বাংলাদেশের তরুণরা। এবারে উত্তাল ভূমধ্যসাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রিয়জনদের শেষবার দেখার সুযোগও পাচ্ছেন না পরিবারগুলো। ফলে শোক আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো সুনামগঞ্জ জেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে তরুণরা বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পথই হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ।

নিহতদের একজন নাঈম আহমেদ

নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নাঈম আহমেদ। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা-র চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা দুলন মিয়ার একটি ছোট চায়ের দোকান রয়েছে। সংসারে অভাব ছিল দীর্ঘদিনের।

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নে নাঈম বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এলাকাবাসীর মতে, দালালদের মাধ্যমে তিনি প্রায় ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করেন—যার জন্য ভিটেমাটি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারকে।

৭ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেন। এরপর লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভূমধ্যসাগর-এর উত্তাল ঢেউ তার স্বপ্ন থামিয়ে দেয় চিরতরে।

লাশও পাচ্ছেন না পরিবার

দুলন মিয়া জানান,

ছেলে বিদেশে গেলে সংসার ভালো হবে—এই আশায় সবকিছু বিক্রি করেছিলেন

এখন টাকা নেই, সন্তান নেই

এমনকি ছেলের লাশও দেশে ফিরবে না

তার ভাষায়, “ভিটেমাটি বিক্রি করলাম, ঋণ করলাম, ছেলে গেল… এখন লাশটাও পাব না।”

মানবপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, দালালরা সাধারণত

বাংলাদেশ → লিবিয়া

লিবিয়া → ছোট নৌকায় ইউরোপ (বিশেষ করে গ্রিস)

এই রুট ব্যবহার করে।

এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ

অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকা

নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব

খারাপ আবহাওয়া

উদ্ধার বিলম্ব

এসব কারণে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটে।

শোকের মাতম পুরো এলাকায়

নিহতদের পরিবারগুলো এখন নিঃস্ব। কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ ঋণ নিয়েছেন। গ্রামের পথে পথে এখন শুধু কান্না আর হতাশা।

স্থানীয়দের দাবি:

মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ বিদেশগমন সম্পর্কে সচেতনতা

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা

সারসংক্ষেপ (৩ মিনিটে পড়ুন) ????

সুনামগঞ্জের ১২ তরুণ ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিহত

লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা ছিল

নিহত নাঈমের পরিবার ১৮ লাখ টাকা খরচ করে নিঃস্ব

লাশও দেশে ফিরবে না

এলাকায় শোকের মাতম

এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা এখনো কমছে না—যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


ভিটেমাটিও গেল, সঙ্গে ১৮ লাখ টাকা — সন্তান হারালেও লা'শ পাবেন না দুলন মিয়া

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

ভিটেমাটিও গেল, সঙ্গে ১৮ লাখ টাকা — সন্তান হারালেও লাশ পাবেন না দুলন মিয়া ????????

ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে আবারও প্রাণ হারালেন বাংলাদেশের তরুণরা। এবারে উত্তাল ভূমধ্যসাগরে ডুবে সুনামগঞ্জের অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রিয়জনদের শেষবার দেখার সুযোগও পাচ্ছেন না পরিবারগুলো। ফলে শোক আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো সুনামগঞ্জ জেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে তরুণরা বিপজ্জনক সমুদ্রপথ বেছে নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পথই হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ।

নিহতদের একজন নাঈম আহমেদ

নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২৪ বছর বয়সী নাঈম আহমেদ। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা-র চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা দুলন মিয়ার একটি ছোট চায়ের দোকান রয়েছে। সংসারে অভাব ছিল দীর্ঘদিনের।

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নে নাঈম বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এলাকাবাসীর মতে, দালালদের মাধ্যমে তিনি প্রায় ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করেন—যার জন্য ভিটেমাটি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারকে।

৭ ডিসেম্বর ঢাকায় গিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেন। এরপর লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভূমধ্যসাগর-এর উত্তাল ঢেউ তার স্বপ্ন থামিয়ে দেয় চিরতরে।

লাশও পাচ্ছেন না পরিবার

দুলন মিয়া জানান,

ছেলে বিদেশে গেলে সংসার ভালো হবে—এই আশায় সবকিছু বিক্রি করেছিলেন

এখন টাকা নেই, সন্তান নেই

এমনকি ছেলের লাশও দেশে ফিরবে না

তার ভাষায়, “ভিটেমাটি বিক্রি করলাম, ঋণ করলাম, ছেলে গেল… এখন লাশটাও পাব না।”

মানবপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, দালালরা সাধারণত

বাংলাদেশ → লিবিয়া

লিবিয়া → ছোট নৌকায় ইউরোপ (বিশেষ করে গ্রিস)

এই রুট ব্যবহার করে।

এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ

অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌকা

নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব

খারাপ আবহাওয়া

উদ্ধার বিলম্ব

এসব কারণে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটে।

শোকের মাতম পুরো এলাকায়

নিহতদের পরিবারগুলো এখন নিঃস্ব। কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ ঋণ নিয়েছেন। গ্রামের পথে পথে এখন শুধু কান্না আর হতাশা।

স্থানীয়দের দাবি:

মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিরাপদ বিদেশগমন সম্পর্কে সচেতনতা

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা

সারসংক্ষেপ (৩ মিনিটে পড়ুন) ????

সুনামগঞ্জের ১২ তরুণ ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিহত

লিবিয়া হয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা ছিল

নিহত নাঈমের পরিবার ১৮ লাখ টাকা খরচ করে নিঃস্ব

লাশও দেশে ফিরবে না

এলাকায় শোকের মাতম

এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা এখনো কমছে না—যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল