ডি এস কে টিভি চ্যানেল

জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

সীতাকুণ্ড-এ নির্বিচারে সাগর থেকে বালু উত্তোলন, ইউএনও কার্যালয়ে জেলেদের বি'ক্ষোভ

সীতাকুণ্ড-এ নির্বিচারে সাগর থেকে বালু উত্তোলন, ইউএনও কার্যালয়ে জেলেদের বি'ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত

সীতাকুণ্ড-এ নির্বিচারে সাগর থেকে বালু উত্তোলন, ইউএনও কার্যালয়ে জেলেদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সমুদ্রের তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কার্যক্রমে উপকূলীয় পরিবেশ, কৃষিজমি ও জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলন করে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০০ একর কৃষিজমি ভরাট করা হয়েছে। কোথাও কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা ফসল মাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবাদ করলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলেরা। তাদের দাবি, প্রতিদিন ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার সময় শত শত মাছ ধরার জাল কেটে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। নদী ও সাগরে জাল ফেললেই ড্রেজার চালিয়ে তা ছিন্নভিন্ন করা হয়। এতে গত কয়েক মাসে কয়েকশ জেলে পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ চত্বরে কয়েকশ জেলে বিক্ষোভ করেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জাল নষ্টের ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা ইউএনও কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ারও চেষ্টা করেন।

জেলেরা বলেন, “বালু খেকোর দল আমাদের শত শত জাল কেটে ছিন্নভিন্ন করেছে। নদীতে জাল ফেললেই তারা কেটে টুকরো টুকরো করে দেয়। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে, ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ায় এবং কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে। তাই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম চলতে দেওয়া উচিত নয়।

স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা ন্যায্য প্রতিকার পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সীতাকুণ্ড-এ নির্বিচারে সাগর থেকে বালু উত্তোলন, ইউএনও কার্যালয়ে জেলেদের বি'ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সীতাকুণ্ড-এ নির্বিচারে সাগর থেকে বালু উত্তোলন, ইউএনও কার্যালয়ে জেলেদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সমুদ্রের তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কার্যক্রমে উপকূলীয় পরিবেশ, কৃষিজমি ও জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলন করে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০০ একর কৃষিজমি ভরাট করা হয়েছে। কোথাও কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা ফসল মাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবাদ করলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলেরা। তাদের দাবি, প্রতিদিন ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার সময় শত শত মাছ ধরার জাল কেটে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। নদী ও সাগরে জাল ফেললেই ড্রেজার চালিয়ে তা ছিন্নভিন্ন করা হয়। এতে গত কয়েক মাসে কয়েকশ জেলে পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ চত্বরে কয়েকশ জেলে বিক্ষোভ করেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জাল নষ্টের ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা ইউএনও কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ারও চেষ্টা করেন।

জেলেরা বলেন, “বালু খেকোর দল আমাদের শত শত জাল কেটে ছিন্নভিন্ন করেছে। নদীতে জাল ফেললেই তারা কেটে টুকরো টুকরো করে দেয়। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে, ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ায় এবং কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে। তাই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম চলতে দেওয়া উচিত নয়।

স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা ন্যায্য প্রতিকার পাবেন।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল