শ্রমিকের মৃত্যুর পরও ভাঙা হচ্ছে না নকশাবহির্ভূত ভবন, নোটিশেই সীমাবদ্ধ মতলব পৌরসভা!মতলব প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নকশাবহির্ভূত ভবন অপসারণের নোটিশের মেয়াদ শেষ হলেও তা ভাঙার কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। নোটিশের সময়সীমা পার হওয়ার পর ৫ দিন অতিবাহিত হলেও ভবনটি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে [১]।[TECHTARANGA-POST:3832]জানা যায়, গত ১০ আগস্ট (সোমবার) মতলব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ভবন মালিক প্রবাসী মো. লিটন বকাউলকে ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ অংশ ভেঙে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৭ আগস্ট (সোমবার) সেই সময়সীমা শেষ হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি।স্থানীয়রা জানান, ওই ভবনের মাত্র ৬ ইঞ্চি দূরত্ব দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি (কিলোভোল্ট) উচ্চ ক্ষমতার লাইন গেছে। যেকোনো মুহূর্তে এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে [১]। গত ৯ আগস্ট (রবিবার) সকালে এই ভবনের দ্বিতীয় তলায় কাজ করার সময় হৃদয় হোসেন (২০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পরই পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভাঙার নোটিশ দেয় [১]। ওই বাড়ীতে লিটনের পরিবারও বসবাস করে। এদিকে ভবনটি অপসারণ না করার পেছনে পৌরসভা ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে চরম সমন্বয়হীনতা ও উদাসীনতা প্রকাশ পেয়েছে। পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস আহমেদ জানান, ভবন মালিক মৌখিকভাবে সময় চেয়েছেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাথে কথা বলে ভবন অপসারণের বিষয়ে পৌরসভাকে জানাবেন বলেছেন [১]।তবে মতলব দক্ষিণ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "ওই এলাকার বিদ্যুৎ বন্ধ করা বা ভবন ভাঙার বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত বা মৌখিক কোনো আবেদনই পাইনি" [১]।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন অপসারণ না করলে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও পৌর প্রশাসনের এমন নীরবতায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন—পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পুনরায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় নেবে কে?