ডি এস কে টিভি চ্যানেল

কানাইঘাটে শতবর্ষী মসজিদের জায়গা নিয়ে বিরোধ: মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল, মুসল্লিদের ক্ষোভ

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার একটি শতবর্ষী মসজিদের জায়গা দখল এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পবিত্র মসজিদের জায়গা নিয়ে এমন বিরোধ ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি শালিস বৈঠকে হট্টগোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।ঘটনাটি ঘটেছে কানাইঘাট উপজেলার ৮নং ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকনাইল দক্ষিণ রসুলপুর জামে মসজিদে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটির মোট জমির পরিমাণ ৬৯ শতক। মসজিদ, সংলগ্ন মাঠ ও পুকুরটি মূলত ৩২৮৪, ৩২৮৫ এবং ৩২৮৬ নম্বর দাগে অবস্থিত। প্রায় শত বছর ধরে এলাকার পূর্বপুরুষরা এই জায়গা দান করে গেছেন এবং পরবর্তীতে মুসল্লিরা ফান্ডের টাকায় আরও কিছু জায়গা ক্রয় করেছেন। কোনো ধরনের বিবাদ ছাড়াই দীর্ঘকাল ধরে মানুষ এখানে ইবাদত করে আসছেন।[TECHTARANGA-POST:3382]কিন্তু বিপত্তি বাঁধে ২০২১ সালে। ফখরুদ্দিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি ৩২৮৬ নম্বর দাগের জায়গাটি নিজের দাবি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই দাগের ওপরই মূলত মসজিদের মূল ভবন (যেখানে সিজদাহ করা হয়) এবং পুকুরটি অবস্থিত। ফখরুদ্দিনের দাবি, ওই দাগের ৯ শতক জায়গা এবং পুকুরের ১ শতক জায়গা তার পৈতৃক সম্পত্তি।মসজিদ কমিটির সভাপতি, মুতাওয়াল্লি এবং স্থানীয় মুরব্বিরা জানান, "ফখরুদ্দিনের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকেই মসজিদ কমিটি সাড়ে ৬ শতক জায়গা ক্রয় করেছিল। সেই কেনা জায়গার ৩টি খতিয়ানের দলিলও মসজিদের নামে রয়েছে। এছাড়া সরকারি এসএ এবং বিএস জরিপেও জায়গাটি মসজিদের নামেই রেকর্ডভুক্ত। অথচ এখন ফখরুদ্দিন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আল্লাহর ঘরের জায়গা নিজের বলে দাবি করছেন।"[TECHTARANGA-POST:3379]সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফখরুদ্দিন যে বাড়ির অর্ধেক মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন, সেই একই বাড়ির বাকি অর্ধেকের মালিক তার আপন ভাই ও চাচা। তারা প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে এসে ফখরুদ্দিনের এই কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মসজিদের জায়গার ওপর তাদের কোনো দাবি নেই এবং ফখরুদ্দিন যেন দ্রুত এই মামলা তুলে নেয়।এই বিরোধ মীমাংসার জন্য গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানেও ফখরুদ্দিন বা তার পক্ষের লোকজন উপস্থিত হননি বা মীমাংসায় আসেননি। উল্টো বৈঠকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত হট্টগোলের সৃষ্টি হয়, যার একটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গ্রামের এবং মসজিদের মানসম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো অসাধু মহলের প্ররোচনায় ফখরুদ্দিন এই মামলাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মসজিদের পবিত্রতা ও এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।**সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ: আমরা কেমন মুসলমান?**যেখানে একজন প্রকৃত মুমিন তার নিজের শেষ সম্বলটুকুও মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন না, সেখানে উল্টো মসজিদের জায়গা দখলের চেষ্টা করা অত্যন্ত জঘন্য ও দুঃখজনক বিষয়। একটি শতবর্ষী মসজিদ, যেখানে মানুষ সেজদাহ দেয়, সেই জায়গা নিয়ে বিরোধে জড়ানোর আগে মানুষের কি একবারও মৃত্যুর কথা মনে পড়ে না? আল্লাহর ঘরের জায়গা নিয়ে এমন লোভ সমাজের চরম অবক্ষয়েরই প্রতিচ্ছবি। সাময়িক এই দুনিয়ায় সামান্য একটু জায়গার জন্য আখেরাত নষ্ট করার এই প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। সত্য জানলে এবং বিবেক জাগ্রত হলে এমন কাজ করা কোনো মুসলমানের পক্ষেই সম্ভব নয়।[TECHTARANGA-POST:3372]

কানাইঘাটে শতবর্ষী মসজিদের জায়গা নিয়ে বিরোধ: মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল, মুসল্লিদের ক্ষোভ