সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির সক্রিয় মঞ্চ থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন।
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির সক্রিয় মঞ্চ থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নতুন করে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়ে সামনে আনছেন। ফলে কংগ্রেসের রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতোই আওয়ামী লীগেও পারিবারিক নেতৃত্ব গঠনের এক ধরণের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক মাস আগেও সায়মা ওয়াজেদ ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক। কিন্তু তাঁকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর পর তিনি এখন মায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও সজীব ওয়াজেদ ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে সক্রিয় ভ‚মিকা নিচ্ছেন।
তবে ঢাকায় অবস্থানরত শেখ হাসিনার দৈনন্দিন কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি অনলাইনে ভাষণের খসড়া তৈরি, কর্মসূচির ক্যালেন্ডার সাজানো থেকে শুরু করে বিদেশি কূটনীতিক ও অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজনও করছেন। গত দুই মাসে বেশ কয়েকবার তিনি এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পরিচালনা করেছেন বলেও জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা তাঁর দায়িত্ব ধীরে ধীরে সন্তানদের ওপর হস্তান্তর করছেন। যদিও বিষয়টি দলীয় পরিসরে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে চাননি।
তবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাত বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। নেতৃত্বের উত্তরাধিকার বা কে কোন পদে থাকবেন—এগুলো নিয়ে এখন কোনো আলোচনা চলছে না।”
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, শেখ হাসিনার পরিবার এবং দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে একসঙ্গে কাজ করছেন। তাঁর ইঙ্গিত ছিল—সজীব ওয়াজেদের পাশাপাশি এখন সায়মা ওয়াজেদও দলের কার্যক্রমে দৃশ্যমানভাবে যুক্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও আরোপ করা হয় নানা নিষেধাজ্ঞা।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন