পাকিস্তান-সৌদি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি: পারমাণবিক কর্মসূচি ভাগাভাগির ইঙ্গিত দিলেন খাজা আসিফ
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পাকিস্তান-সৌদি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি: পারমাণবিক কর্মসূচি ভাগাভাগির ইঙ্গিত দিলেন খাজা আসিফ
সৌদি আরবের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইসলামাবাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘সৌদি আরবের জন্যও উন্মুক্ত’ থাকবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।
জিও টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি নতুন কোনো বিষয় নয়, এটি ১৯৯৮ সালের পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর থেকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা সৌদি আরবের জন্যও ব্যবহারযোগ্য হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে জানান।
আসিফের ভাষায়, এই চুক্তি একটি "ছাতা ব্যবস্থা"। অর্থাৎ, পাকিস্তান কিংবা সৌদি আরবের যেকোনো অঞ্চলে হামলা হলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে ধরা হবে এবং যৌথভাবে জবাব দেয়া হবে। তবে আক্রমণকারী রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করতে দুই পক্ষই সচেতনভাবে বিরত থেকেছে।
এটি প্রথমবারের মতো ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে জানালো যে সৌদি আরব পাকিস্তানের ‘পারমাণবিক নিরাপত্তা ছাতার’ আওতাভুক্ত হতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের প্রতিক্রিয়া এসেছে দ্রুতই। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের একটি গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও প্রসারিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দেবে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, পাকিস্তান ও সৌদি আরব প্রথম প্রতিরক্ষা চুক্তি করে ১৯৬৭ সালে। পরে ১৯৮২ সালে এটি নিরাপত্তা সহযোগিতার পর্যায়ে উন্নীত হয়। তখন সৌদি আরবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন ছিল।
নতুন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না হলেও যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি মূলত সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন