শতবর্ষী ‘মিনিস্টার বাড়ি’ ভাঙারির কাছে বিক্রি, তোলপাড় সিলেটে
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫
শতবর্ষী ‘মিনিস্টার বাড়ি’ ভাঙারির কাছে বিক্রি, তোলপাড় সিলেটে
সিলেট নগরের পাঠানটুলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ‘মিনিস্টার বাড়ি’ ভাঙার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। জানা গেছে, প্রায় শতবর্ষ পুরনো এই স্থাপত্যশৈলীর অনন্য বাড়িটি মাত্র ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে। ইতিমধ্যে শ্রমিকেরা ভবন ভাঙার কাজও শুরু করেছিলেন। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের হস্তক্ষেপে আপাতত কাজটি বন্ধ রয়েছে।
ঐতিহাসিক স্থাপনা ভাঙার প্রক্রিয়া থেমে গেলেও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ভবনটি পরিদর্শন করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের গবেষণা সহকারী মো. ওমর ফারুক। তিনি রোববার পর্যন্ত সব ধরনের ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ওই সময় পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক আশরাফুল কবির, স্থপতি রাজন দাশসহ স্থানীয় পরিবেশকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আব্দুল হামিদের ঐতিহ্যের স্মারক
ই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ আব্দুল হামিদ, যিনি ব্রিটিশ ভারতের আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য এবং পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন। দেশ ভাগের পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নাম থেকেই বাড়িটির পরিচিতি — ‘মিনিস্টার বাড়ি’।
মাত্র ১৮ লাখে বিক্রি!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। ক্রেতা শ্রমিক দিয়ে ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেন, যা সম্পূর্ণ হতে অন্তত ২-৩ মাস সময় লাগত বলে শ্রমিকদের ধারণা।
শুক্রবার সকালে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হামিদের নাতি আনিসুল ইসলাম। তিনি বলেন,
> “বাড়িটি খুবই পুরনো, ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। আমরা ভীষণ কষ্ট নিয়ে সিদ্ধান্তটি নিতে বাধ্য হয়েছি।”
সংরক্ষণের দাবি
পরিবেশকর্মী আশরাফুল কবির বলেন,
> “মিনিস্টার বাড়ি কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি সিলেটের ইতিহাসের জীবন্ত অংশ। এই ভবনকে যাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল, পরিবার ও প্রশাসনের উভয়েরই উদ্যোগ নেয়া উচিত।”
স্থপতি রাজন দাশ জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে ভবনটি রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
শতবর্ষের ঐতিহ্য
প্রায় ৮১ শতক জমির ওপর নির্মিত এই বিশাল বাড়িটি স্থানীয়দের মতে শতবর্ষ অতিক্রম করেছে। বাড়ির মালিক আব্দুল হামিদ ১৯৬৩ সালে মারা যান। তাঁর বোন হাফিজা বানু ছিলেন আইনজীবী আবু আহমদ আব্দুল হাফিজের স্ত্রী, যিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের দাদি।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আহ্বান
অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, “এমন ঐতিহ্যবাহী ভবন ধ্বংস হওয়া মানে ইতিহাস হারানো।” তাদের দাবি, সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে সিলেটসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো রক্ষায়।
-
চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলমবার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ
কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপনার মতামত লিখুন