চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগে ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা, নাগেশ্বরীতে চাঞ্চল্য
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগে ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা, নাগেশ্বরীতে চাঞ্চল্য
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ভাতিজার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী (২৪) নারী ধর্ষণের অভিযোগে শাহজালাল ওরফে মণ্ডল (২৭)-এর বিরুদ্ধে নাগেশ্বরী থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত শাহজালাল তার স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হওয়ায় পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে চাচি-ভাতিজার সম্পর্ক ছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগীর স্বামী জীবিকার তাগিদে প্রায় সময়ই বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকের কাজ করতেন, যার কারণে তিনি বাড়িতে অনুপস্থিত থাকতেন। এই সুযোগে শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ এপ্রিল রাতের দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী বাইরে থাকা অবস্থায় শাহজালাল জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে নির্যাতন করে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা টের পেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, ঘটনার কয়েক মাস আগে থেকেই অভিযুক্তের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল এবং তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। তবে পরে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
অন্যদিকে কিছু স্থানীয় দাবি করেন, তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি নিয়েও গুঞ্জন ছিল, যদিও এর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত তাকে বিয়ের প্রলোভন ও ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিল। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন রাতে তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক অনৈতিক আচরণ করে। পরে তিনি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে মামলা করেন।
নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরে মামলা রেকর্ড করা হয়। অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর অভিযুক্তের বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন