ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সৌদিতে ক্ষে'পণাস্ত্র হাম'লা: গফরগাঁওয়ের মামুনের মৃ/ত্যু, এলাকায় শো'কের ছায়া

সৌদিতে ক্ষে'পণাস্ত্র হাম'লা: গফরগাঁওয়ের মামুনের মৃ/ত্যু, এলাকায় শো'কের ছায়া

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: গফরগাঁওয়ের মামুনের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার প্রবাসী যুবক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫)। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সৌদি আরব সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল খারিজ শহরের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কীভাবে ঘটেছিল হামলা

জানা গেছে, সৌদি আরবের Al Kharj শহরে হঠাৎ করেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় মামুন তার কর্মস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

পরিবারের আহাজারি

মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।

তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্যই বিদেশে গিয়েছিলেন মামুন। কিন্তু তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না।

লাশ দেশে আনার চেষ্টা

পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত হলে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনার পর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন হামলার ঘটনা প্রবাসীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

মামুনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং প্রবাসজীবনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার এক নির্মম বাস্তবতাও তুলে ধরেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


সৌদিতে ক্ষে'পণাস্ত্র হাম'লা: গফরগাঁওয়ের মামুনের মৃ/ত্যু, এলাকায় শো'কের ছায়া

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: গফরগাঁওয়ের মামুনের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার প্রবাসী যুবক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫)। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সৌদি আরব সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল খারিজ শহরের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কীভাবে ঘটেছিল হামলা

জানা গেছে, সৌদি আরবের Al Kharj শহরে হঠাৎ করেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় মামুন তার কর্মস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

পরিবারের আহাজারি

মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। কয়েক বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।

তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্যই বিদেশে গিয়েছিলেন মামুন। কিন্তু তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না।

লাশ দেশে আনার চেষ্টা

পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত হলে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এই ঘটনার পর সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন হামলার ঘটনা প্রবাসীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

মামুনের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং প্রবাসজীবনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার এক নির্মম বাস্তবতাও তুলে ধরেছে।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল