ডি এস কে টিভি চ্যানেল

কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত

বন্ধ কারখানা চালুতে সুখবর, ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দেশে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা শিল্পকারখানাগুলো চালুর বিষয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার বেইলি রোডে শ্রমমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও নন-আরএমজি খাতে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এ কথা জানান।

সভায় মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলো দ্রুত চালু করতে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—শ্রমিকদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস অবশ্যই ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা যেন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ২১২৭টি কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬৪টি কারখানা, অর্থাৎ প্রায় ৯২.৩৪ শতাংশ কারখানা ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। এছাড়া ১৫৩৫টি কারখানা বা প্রায় ৭২.১৭ শতাংশ কারখানা ঈদের বোনাসও পরিশোধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসের বেতন এখনো বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়ার বিষয় নয়। তবে যেসব কারখানার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা চাইলে তা পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু কিছু মহল শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে অযথা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্ম্মদ হাতেম জানান, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস দিয়েছে। তার মতে, অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করায় বড় ধরনের শ্রম অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, একটি আপদকালীন তহবিল গঠন করা গেলে সেই অর্থ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হওয়ার পাশাপাশি বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬


বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

বন্ধ কারখানা চালুতে সুখবর, ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দেশে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা শিল্পকারখানাগুলো চালুর বিষয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার বেইলি রোডে শ্রমমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও নন-আরএমজি খাতে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এ কথা জানান।

সভায় মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলো দ্রুত চালু করতে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—শ্রমিকদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস অবশ্যই ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা যেন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ২১২৭টি কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬৪টি কারখানা, অর্থাৎ প্রায় ৯২.৩৪ শতাংশ কারখানা ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। এছাড়া ১৫৩৫টি কারখানা বা প্রায় ৭২.১৭ শতাংশ কারখানা ঈদের বোনাসও পরিশোধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসের বেতন এখনো বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়ার বিষয় নয়। তবে যেসব কারখানার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা চাইলে তা পরিশোধ করতে পারে। কিন্তু কিছু মহল শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে অযথা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্ম্মদ হাতেম জানান, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস দিয়েছে। তার মতে, অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করায় বড় ধরনের শ্রম অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, একটি আপদকালীন তহবিল গঠন করা গেলে সেই অর্থ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হওয়ার পাশাপাশি বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল