ডি এস কে টিভি চ্যানেল

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।

মুহূর্তেই বদলে গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন রাষ্ট্রপতি। আসলে কার পক্ষে

মুহূর্তেই বদলে গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন রাষ্ট্রপতি। আসলে কার পক্ষে

মুহূর্তেই বদলে গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন রাষ্ট্রপতি। আসলে কার পক্ষে 

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। 

আপনি যদি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আজকের রাষ্ট্রপতিকে মেলাতে যান, তাহলে হয়তো একটু খটকায় পড়ে যাবেন। হয়তো ভাববেন, ইনিই কি সেই রাষ্ট্রপতি যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক? যিনি ফ্যাসিস্ট খ্যাত শেখ হাসিনার পায়ের ধুলো পেলে নিজেকে গর্বিত মনে করতেন? কিংবা হয়তো ভাববেন, ইনিই কি সেই সাহাবুদ্দিন যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, এমনকি আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও নানা কটু কথা বলে অভ্যস্ত?

"২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, বাংলাদেশ চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।"

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, রাজনীতিতে এমন অনেক কিছুই ঘটে যা স্বাভাবিক নিয়মে হওয়ার কথা নয়। অনেকের মতে, দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের ভাষণ তেমনি একটি অস্বাভাবিক কিন্তু বাস্তব ঘটনা। তাই দেড় বছর আগেও যে দলটির প্রতি, যে দলের নেতৃত্বের প্রতি ছিল চরম আনুগত্য, আজ সেই দলকেই ফ্যাসিস্ট বলতেও দ্বিধা করেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। আজীবন আওয়ামী লীগের চেতনা ধারণ করা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মুখে আজ শোনা গেছে আওয়ামী লীগের আমলে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানানোর কথাও। 

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি যে দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে নিয়ে নানা সময় কটু কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি, আজ সেই দলের পক্ষেই তার কণ্ঠে ঝড়ে পড়লো অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নীরব ভূমিকা পালন করা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ প্রশংসা ও শ্রদ্ধায় ভাসালেন জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদেরও।

"বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে।"

তবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আহমেদ চুপ্পুর বক্তব্য শুনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানালেও, প্ল্যাকার্ড হাতে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। এক পর্যায়ে নানা নেতিবাচক স্লোগান দিয়ে দ্বাদশ সংসদের প্রথম ওয়াকআউটের নজির গড়লো বিরোধী জোট। 

শুধু বিরোধী দল নয়, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের আজকের বক্তব্য শুনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে নেটিজেনদের মধ্যেও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উঠেছে নানা বিরূপ মন্তব্যের ঝড়। কেউ তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন অভিনয়ের জন্য, কেউ আবার তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন মীরজাফরের কাতারে। 

প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই কি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রতি ঘৃণা পোষণ করছেন? তিনি কি আসলেই বিএনপিকে ভালোবাসতে শুরু করেছেন? নাকি টিকে থাকার জন্য এটিই তার কোনো রাজনৈতিক কৌশল? 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ আজ যা বলছেন হতে পারে এগুলো তার মনের কথা নয়। হতে পারে রাজনৈতিক কঠিন বাস্তবতায় নিজেকে বদলে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ডুবতে থাকা মানুষ খড়কুটো ধরে যেমন বাঁচতে চায়, ঠিক তেমনি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬


মুহূর্তেই বদলে গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন রাষ্ট্রপতি। আসলে কার পক্ষে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

মুহূর্তেই বদলে গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন রাষ্ট্রপতি। আসলে কার পক্ষে 


দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। 


আপনি যদি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আজকের রাষ্ট্রপতিকে মেলাতে যান, তাহলে হয়তো একটু খটকায় পড়ে যাবেন। হয়তো ভাববেন, ইনিই কি সেই রাষ্ট্রপতি যিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক? যিনি ফ্যাসিস্ট খ্যাত শেখ হাসিনার পায়ের ধুলো পেলে নিজেকে গর্বিত মনে করতেন? কিংবা হয়তো ভাববেন, ইনিই কি সেই সাহাবুদ্দিন যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, এমনকি আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও নানা কটু কথা বলে অভ্যস্ত?


"২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত, বাংলাদেশ চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।"


রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, রাজনীতিতে এমন অনেক কিছুই ঘটে যা স্বাভাবিক নিয়মে হওয়ার কথা নয়। অনেকের মতে, দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের ভাষণ তেমনি একটি অস্বাভাবিক কিন্তু বাস্তব ঘটনা। তাই দেড় বছর আগেও যে দলটির প্রতি, যে দলের নেতৃত্বের প্রতি ছিল চরম আনুগত্য, আজ সেই দলকেই ফ্যাসিস্ট বলতেও দ্বিধা করেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। আজীবন আওয়ামী লীগের চেতনা ধারণ করা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মুখে আজ শোনা গেছে আওয়ামী লীগের আমলে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানানোর কথাও। 


দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।


পাশাপাশি যে দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে নিয়ে নানা সময় কটু কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি, আজ সেই দলের পক্ষেই তার কণ্ঠে ঝড়ে পড়লো অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নীরব ভূমিকা পালন করা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ প্রশংসা ও শ্রদ্ধায় ভাসালেন জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদেরও।


"বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে।"


তবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আহমেদ চুপ্পুর বক্তব্য শুনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানালেও, প্ল্যাকার্ড হাতে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। এক পর্যায়ে নানা নেতিবাচক স্লোগান দিয়ে দ্বাদশ সংসদের প্রথম ওয়াকআউটের নজির গড়লো বিরোধী জোট। 


শুধু বিরোধী দল নয়, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের আজকের বক্তব্য শুনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে নেটিজেনদের মধ্যেও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উঠেছে নানা বিরূপ মন্তব্যের ঝড়। কেউ তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন অভিনয়ের জন্য, কেউ আবার তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন মীরজাফরের কাতারে। 


প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই কি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রতি ঘৃণা পোষণ করছেন? তিনি কি আসলেই বিএনপিকে ভালোবাসতে শুরু করেছেন? নাকি টিকে থাকার জন্য এটিই তার কোনো রাজনৈতিক কৌশল? 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ আজ যা বলছেন হতে পারে এগুলো তার মনের কথা নয়। হতে পারে রাজনৈতিক কঠিন বাস্তবতায় নিজেকে বদলে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ডুবতে থাকা মানুষ খড়কুটো ধরে যেমন বাঁচতে চায়, ঠিক তেমনি।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল