মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান তাদের রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Saudi Press Agency এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সরকারি বিবৃতিতে এই হামলাকে “স্পষ্ট ও কাপুরুষোচিত” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে হামলাটি প্রতিহত করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সমঝোতার তিন বছর পর নতুন উত্তেজনা
ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমাতে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছিল। সেই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। ওই সমঝোতা স্বাক্ষর হয় Beijing-এ, যেখানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে China।
এই সমঝোতার ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল। ইয়েমেন যুদ্ধ, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল, তা কমিয়ে আনার আশা দেখা দিয়েছিল। দূতাবাস পুনরায় চালু করা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনর্বহাল ছিল সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন মোড়
তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সরাসরি ইরানকে দায়ী করা হয় এবং উত্তেজনা বাড়তে থাকে, তাহলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
রিয়াদে হামলার এই দাবি এমন এক সময় এলো, যখন ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সন্দেহ ও সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান তাদের রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Saudi Press Agency এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সরকারি বিবৃতিতে এই হামলাকে “স্পষ্ট ও কাপুরুষোচিত” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে হামলাটি প্রতিহত করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সমঝোতার তিন বছর পর নতুন উত্তেজনা
ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমাতে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছিল। সেই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। ওই সমঝোতা স্বাক্ষর হয় Beijing-এ, যেখানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে China।
এই সমঝোতার ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল। ইয়েমেন যুদ্ধ, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল, তা কমিয়ে আনার আশা দেখা দিয়েছিল। দূতাবাস পুনরায় চালু করা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনর্বহাল ছিল সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন মোড়
তবে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সরাসরি ইরানকে দায়ী করা হয় এবং উত্তেজনা বাড়তে থাকে, তাহলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
রিয়াদে হামলার এই দাবি এমন এক সময় এলো, যখন ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক সন্দেহ ও সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন