রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর রাজপাড়া থানাধীন কাদের মণ্ডলের মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণীর নাম রোজিনা সরকার পাখি (২১)। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে তার পালিত মা রোজী খাতুন (৪০)-এর সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায়। বাবার নাম ইদ্রিস আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে রোজিনা তার ফেসবুক প্রোফাইলে একাধিক পোস্ট দেন। সেসব পোস্টে তিনি মানসিক কষ্টের ইঙ্গিত দেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে এক পোস্টে প্রেমিকের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা লিখে তিনি জীবনের প্রতি হতাশার প্রকাশ ঘটান। তার ভাষ্য থেকে বোঝা যায়, সম্পর্কজনিত সংকট তাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরের দিকে তিনি নিজের কক্ষে একা ছিলেন। এ সময় তিনি ফেসবুকে লাইভে আসেন। লাইভ চলাকালে হঠাৎ করে তিনি গলায় ফাঁস দেন। বিষয়টি টের পেয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত বাসায় ছুটে যান।
খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পারিবারিক, ব্যক্তিগত কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, রোজিনা চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন। বাইরে থেকে তাকে স্বাভাবিকই মনে হতো। তবে ভেতরে যে এত কষ্ট জমে ছিল, তা কেউ বুঝতে পারেননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কজনিত জটিলতা, পারিবারিক চাপ, একাকিত্ব ও মানসিক অবসাদ—এসব কারণে তরুণ-তরুণীরা অনেক সময় চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মহত্যার ইঙ্গিতমূলক পোস্ট বা লাইভে আসা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিবার, বন্ধু কিংবা আশপাশের মানুষদের উচিত এমন সংকেত দেখলে দ্রুত যোগাযোগ করা এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিক চাপে থাকেন বা আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগে থাকেন, তবে দয়া করে একা থাকবেন না। নিকটজন, বিশ্বস্ত বন্ধু বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে জাতীয় হেল্পলাইন বা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার সহায়তা নিন। সময়মতো সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক অঘটনই এড়ানো সম্ভব।

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীতে ফেসবুক লাইভে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর রাজপাড়া থানাধীন কাদের মণ্ডলের মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণীর নাম রোজিনা সরকার পাখি (২১)। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে তার পালিত মা রোজী খাতুন (৪০)-এর সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায়। বাবার নাম ইদ্রিস আলী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে রোজিনা তার ফেসবুক প্রোফাইলে একাধিক পোস্ট দেন। সেসব পোস্টে তিনি মানসিক কষ্টের ইঙ্গিত দেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে এক পোস্টে প্রেমিকের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা লিখে তিনি জীবনের প্রতি হতাশার প্রকাশ ঘটান। তার ভাষ্য থেকে বোঝা যায়, সম্পর্কজনিত সংকট তাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরের দিকে তিনি নিজের কক্ষে একা ছিলেন। এ সময় তিনি ফেসবুকে লাইভে আসেন। লাইভ চলাকালে হঠাৎ করে তিনি গলায় ফাঁস দেন। বিষয়টি টের পেয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত বাসায় ছুটে যান।
খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পারিবারিক, ব্যক্তিগত কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, রোজিনা চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন। বাইরে থেকে তাকে স্বাভাবিকই মনে হতো। তবে ভেতরে যে এত কষ্ট জমে ছিল, তা কেউ বুঝতে পারেননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কজনিত জটিলতা, পারিবারিক চাপ, একাকিত্ব ও মানসিক অবসাদ—এসব কারণে তরুণ-তরুণীরা অনেক সময় চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মহত্যার ইঙ্গিতমূলক পোস্ট বা লাইভে আসা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিবার, বন্ধু কিংবা আশপাশের মানুষদের উচিত এমন সংকেত দেখলে দ্রুত যোগাযোগ করা এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিক চাপে থাকেন বা আত্মহত্যার চিন্তায় ভুগে থাকেন, তবে দয়া করে একা থাকবেন না। নিকটজন, বিশ্বস্ত বন্ধু বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে জাতীয় হেল্পলাইন বা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার সহায়তা নিন। সময়মতো সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক অঘটনই এড়ানো সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন