কেমন হলো বগুড়ার আরেকটি নতুন উপজেলা মোকামতলা
আয়তনে সবার চেয়ে ছোট। বাস করা জনসংখ্যা তুলনামূলক কম। বগুড়ার নতুন উপজেলা মোকামতলা। বগুড়া জেলায় ১২টি উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলো নবীন আরেকটি উপজেলা মোকামতলা। ইতোমধ্যে গেজেট প্রকাশে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়ার ১৩তম উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মোকামতলাকে। শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে পৃথক হওয়া পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে এই নতুন প্রশাসনিক ইউনিট। বগুড়া -২ আসনে উপজেলা দুইটি(শিবগঞ্জ, মোকামতলা) হলেও থাকছে একটি আসন। মোকামতলা উপজেলার অন্তর্ভুক্তে থাকছে—দেউলি, সৈয়দপুর, ময়দাহাটা, মোকামতলা ও শিবগঞ্জ ইউনিয়ন। ২৬০টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত এই উপজেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাছে। এছাড়া গাবতলী উপজেলার কাগইল ও রায়নগর ইউনিয়নের কিছু অংশ ভবিষ্যতে মোকামতলার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।[TECHTARANGA-POST:3284]স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন,কাগইল ইউনিয়ন থেকে গাবতলীতে যেতে অনেক দূরত্ব ও সময় ব্যয় হয়। মোকামতলা কাছে হওয়ায় আমাদের জন্য এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক হতে পারে,দেখা যাক কি হয়। অন্যদিকে, রায়নগর ইউনিয়নের টেপগাড়ি গ্রামের বাসিন্দারাও বিভিন্য মাধ্যমে মোকামতলা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।কৃষিনির্ভর অঞ্চল হিসেবে মোকামতলা ইতোমধ্যে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। ধান, আলু,মরিচ, গম, ভুট্টা, সবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের চাষাবাদ এখানে ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী, উপজেলার প্রায় ৬৫.১২ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।মোকামতলা উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭৯ হাজার মানুষের বসবাস। নারী-পুরুষের অনুপাত ১০০:১০০.৬। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ৫৩৫ জন।শিক্ষানগরী বগুড়ার অংশ হিসেবে মোকামতলার শিক্ষার হারও উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এখানে শিক্ষার হার ৫৬.৪০ শতাংশ। এছাড়া প্রায় ২০.৩২ শতাংশ মানুষের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব রয়েছে। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষিঋণ এখনও জটিল । স্থানীয় কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন,আমাদের এলাকায় সব ধরনের ফসল হয়। কিন্তু বাজারজাতকরণে আমরা এখনও ঢাকায় কেন্দ্রীক ন্যায্যমূল্যও অনেক সময় পাওয়া যায় না। আমাদের বগুড়ায় বিমানে করে কৃষিপণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা উপকৃত হবে। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো, নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বদলে যেতে পারে মোকামতলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র এমন আশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।