ডি এস কে টিভি চ্যানেল
আপডেট : শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে পাঠানো কৌশলগত হুমকি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যু'দ্ধে নতুন এক সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দিয়েছে তেহরান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যু'দ্ধে নতুন এক সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দিয়েছে তেহরান

"মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন এক সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে তাদের ছোঁড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই এক টনের কম ওয়ারহেড বহন করবে না। অর্থাৎ ভবিষ্যতের হামলাগুলো হবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো শক্তিশালী, আরো বিধ্বংসী। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা শুধু সামরিক পরিকল্পনার অংশ নয়, এটি সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে পাঠানো কৌশলগত হুমকি। 

যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান তুলনামূলক পুরনো ও হালকা মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা করে দেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ইসরায়েল বাধ্য হয়ে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করেছে। আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং অ্যারো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান মূলত প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করতেই এই কৌশল নিয়েছিল। 

এবার সেই পরীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে আসল আঘাত। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। বাহিনীর অ্যারোস্পেস কমান্ডার মাজেদ মুসাভি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অন্তত এক টনের বেশি বিস্ফোরক বহন করবে। তার মতে, শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিই নয়, বাড়ানো হবে হামলার পরিসর ও তীব্রতাও। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক টন বা তার বেশি ওয়ারহেড যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র মানে কেবল বড় বিস্ফোরণ নয়, এক আঘাতেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার ক্ষমতা। বিমানঘাঁটি, রাডার স্টেশন, কমান্ড সেন্টার কিংবা জ্বালানি স্থাপনাগুলো এমন মিসাইলের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। ফলে একটি হামলাতেই বড় ধরনের সামরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির কাছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘপাল্লার নানা ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। এসব মিসাইল কয়েকশ কিলোমিটার থেকে শুরু করে দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে ইসরায়েলের প্রায় পুরো ভূখণ্ড এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের মিসাইল রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই নতুন ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। কারণ ভারী ওয়ারহেড বহনকারী মিসাইলের মুখে ইসরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে এখন নতুন করে হিসাব কষছে তেল আবিব ও তার মিত্ররা।"

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যু'দ্ধে নতুন এক সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দিয়েছে তেহরান

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

"মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন এক সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে তাদের ছোঁড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই এক টনের কম ওয়ারহেড বহন করবে না। অর্থাৎ ভবিষ্যতের হামলাগুলো হবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো শক্তিশালী, আরো বিধ্বংসী। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা শুধু সামরিক পরিকল্পনার অংশ নয়, এটি সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে পাঠানো কৌশলগত হুমকি। 

যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরান তুলনামূলক পুরনো ও হালকা মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা করে দেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ইসরায়েল বাধ্য হয়ে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করেছে। আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং অ্যারো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান মূলত প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাই করতেই এই কৌশল নিয়েছিল। 

এবার সেই পরীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে আসল আঘাত। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। বাহিনীর অ্যারোস্পেস কমান্ডার মাজেদ মুসাভি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অন্তত এক টনের বেশি বিস্ফোরক বহন করবে। তার মতে, শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিই নয়, বাড়ানো হবে হামলার পরিসর ও তীব্রতাও। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক টন বা তার বেশি ওয়ারহেড যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র মানে কেবল বড় বিস্ফোরণ নয়, এক আঘাতেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার ক্ষমতা। বিমানঘাঁটি, রাডার স্টেশন, কমান্ড সেন্টার কিংবা জ্বালানি স্থাপনাগুলো এমন মিসাইলের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। ফলে একটি হামলাতেই বড় ধরনের সামরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশটির কাছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘপাল্লার নানা ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। এসব মিসাইল কয়েকশ কিলোমিটার থেকে শুরু করে দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে ইসরায়েলের প্রায় পুরো ভূখণ্ড এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের মিসাইল রেঞ্জের মধ্যে পড়ে। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই নতুন ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। কারণ ভারী ওয়ারহেড বহনকারী মিসাইলের মুখে ইসরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে এখন নতুন করে হিসাব কষছে তেল আবিব ও তার মিত্ররা।"


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল