মেলোনি থেকে কিম জং উন-ইরানের পক্ষে বইছে বিশ্ব-সমর্থনের হাওয়া
যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যৌথ সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ইরান যখন কোণঠাসা হওয়ার কথা, ঠিক তখনই খেলার মোড় ঘুরে গেছে ১৮০ ডিগ্রি। দুই আগ্রাসী শক্তি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু তোয়াক্কা না করেই এক নতুন মেরুকরণের সাক্ষী হচ্ছে বিশ্ব।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি থেকে শুরু করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ ও নেতারা মুখ খুলছেন। সমালোচনার তীর ছুটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে, আর সহানুভূতির ঢেউ ধীরে ধীরে জড়ো হচ্ছে ইরানের পাশে।
প্রথমে যে দেশের কথা না বললেই নয়, সেটা রাশিয়া। এতদিন পর্যন্ত ইরানকে শুধু গোয়েন্দা তথ্য দিলেও এখন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমেও সহায়তা করছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত ড্রোন কৌশল ইরানকে সরবরাহ করছে রাশিয়া। যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এক পশ্চিমা গোয়েন্দার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। রাশিয়ার এই সরাসরি অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় রাজনীতির চিরাচরিত ছক ভেঙে বড় এক ধাক্কা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলো মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডে নীরবতা পালন করলেও মেলোনি এবার প্রকাশ্যেই বোমা ফাটিয়েছেন। বুধবার এক কড়া বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী এবং বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। মেলোনির এই সরাসরি সমালোচনা পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই যেন স্পষ্ট করে দিল।
সমালোচনার ঝড়ে ঘি ঢেলেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী একমাত্র ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, ইরানের ওপর এই আক্রমণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকির। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া অক্ষশক্তি যেন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠল।
তাছাড়াও আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ইসরায়েলি সিদ্ধান্ত। এই ঘটনায় কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আটটি শক্তিশালী মুসলিম দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের উপাসনালয়ে প্রবেশে বাধা দেয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এটি কেবল ধর্মীয় আঘাত নয়, বরং পুরো আরব বিশ্বের বিরুদ্ধে এক চরম উস্কানি।
সব মিলিয়ে যে মিত্রশক্তির দাপটে একসময় বিশ্ব কাঁপত, আজ সেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই যেন বিশ্ববাসীর কাঠগড়ায়। ইরানের বিরুদ্ধে যে অবরোধ আর সামরিক চাপের চাল চেলেছিল ওয়াশিংটন, তা আজ ফিরে আসছে তাদের দিকেই। একদিকে রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি, অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার পরাশক্তিগুলোর প্রকাশ্য বিরোধিতা। সব মিলিয়ে ইরানের একঘরে হওয়া তো দূরে থাক, উল্টো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে পশ্চিমা আধিপত্য।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
মেলোনি থেকে কিম জং উন-ইরানের পক্ষে বইছে বিশ্ব-সমর্থনের হাওয়া
যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের যৌথ সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ইরান যখন কোণঠাসা হওয়ার কথা, ঠিক তখনই খেলার মোড় ঘুরে গেছে ১৮০ ডিগ্রি। দুই আগ্রাসী শক্তি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু তোয়াক্কা না করেই এক নতুন মেরুকরণের সাক্ষী হচ্ছে বিশ্ব।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি থেকে শুরু করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ ও নেতারা মুখ খুলছেন। সমালোচনার তীর ছুটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে, আর সহানুভূতির ঢেউ ধীরে ধীরে জড়ো হচ্ছে ইরানের পাশে।
প্রথমে যে দেশের কথা না বললেই নয়, সেটা রাশিয়া। এতদিন পর্যন্ত ইরানকে শুধু গোয়েন্দা তথ্য দিলেও এখন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমেও সহায়তা করছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত ড্রোন কৌশল ইরানকে সরবরাহ করছে রাশিয়া। যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এক পশ্চিমা গোয়েন্দার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। রাশিয়ার এই সরাসরি অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় রাজনীতির চিরাচরিত ছক ভেঙে বড় এক ধাক্কা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলো মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডে নীরবতা পালন করলেও মেলোনি এবার প্রকাশ্যেই বোমা ফাটিয়েছেন। বুধবার এক কড়া বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী এবং বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। মেলোনির এই সরাসরি সমালোচনা পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই যেন স্পষ্ট করে দিল।
সমালোচনার ঝড়ে ঘি ঢেলেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী একমাত্র ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষায়, ইরানের ওপর এই আক্রমণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকির। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া অক্ষশক্তি যেন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠল।
তাছাড়াও আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ইসরায়েলি সিদ্ধান্ত। এই ঘটনায় কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আটটি শক্তিশালী মুসলিম দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের উপাসনালয়ে প্রবেশে বাধা দেয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এটি কেবল ধর্মীয় আঘাত নয়, বরং পুরো আরব বিশ্বের বিরুদ্ধে এক চরম উস্কানি।
সব মিলিয়ে যে মিত্রশক্তির দাপটে একসময় বিশ্ব কাঁপত, আজ সেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই যেন বিশ্ববাসীর কাঠগড়ায়। ইরানের বিরুদ্ধে যে অবরোধ আর সামরিক চাপের চাল চেলেছিল ওয়াশিংটন, তা আজ ফিরে আসছে তাদের দিকেই। একদিকে রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি, অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার পরাশক্তিগুলোর প্রকাশ্য বিরোধিতা। সব মিলিয়ে ইরানের একঘরে হওয়া তো দূরে থাক, উল্টো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে পশ্চিমা আধিপত্য।

আপনার মতামত লিখুন