ট্রাম্পের জন্য আরো এক দুঃসংবাদ
ইরানের চালে সব হারাচ্ছে আমেরিকা
রণক্ষেত্রে বাজছে যুদ্ধের দামামা, কিন্তু ওয়াশিংটনের অন্দরমহলে এখন ভয়ের প্রতিধ্বনি। পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি যখন ইরানি ড্রোন আর মিসাইলের আগুনে উত্তপ্ত, ঠিক তখনই সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য।
মার্কিন সামরিক শক্তির অহংকার, সেই বিখ্যাত টমাহক ক্রুজ মিসাইলের ভাণ্ডার কি তবে শূন্য হতে চলেছে? পেন্টাগনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এখন একটাই প্রশ্ন, ইরানকে দমাতে গিয়ে কি প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সামনে নিজেদের নিরস্ত্র করে ফেলছে আমেরিকা?
অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ৭২ ঘণ্টাতেই পেন্টাগন খরচ করে ফেলেছে ৪০০-এর বেশি টমাহক মিসাইল। আকাশপথে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া এই মরণাস্ত্রগুলো ইরানের এয়ার ডিফেন্স তছনছ করলেও, খোদ মার্কিন নৌবাহিনীর অস্ত্রাগারের মজুদ এখন তলানিতে। যে গতিতে মিসাইল ছোড়া হচ্ছে, সেই গতিতে তা তৈরির সক্ষমতা কি আদৌ আছে মার্কিন অস্ত্র কারখানাগুলোর?
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রণকৌশল বদলাতে বাধ্য হচ্ছে হোয়াইট হাউস। আকাশচুম্বী দামের টমাহকের বদলে এখন ময়দানে নামানো হচ্ছে বি-৫২ আর বি-১ বোমারু বিমান। লক্ষ্য একটাই, ব্যয়বহুল মিসাইল বাঁচিয়ে সস্তা জেইড্যাম (JDAM) গাইডেড বোমায় ইরানকে কুপোকাত করা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই বাজেট অপটিমাইজেশন কি যুদ্ধের ময়দানে আমেরিকার মারকুটে ইমেজকে ক্ষুণ্ন করছে না?
এদিকে ওয়াশিংটনের মসনদ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছুড়ে দিয়েছেন এক নজিরবিহীন হুংকার। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির জায়ান্ট কোম্পানি লকহিড মার্টিন আর আরটিএক্স-কে (RTX) স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, 'আগে মিসাইল দাও, পরে লভ্যাংশ'। নতুন এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক বা ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না।
যুদ্ধের বাজারে কর্পোরেট মুনাফায় এমন কুঠারাঘাত আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা কাজ করছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সামলাতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে থাড (THAAD) আর প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি। এতে করে উত্তর কোরিয়া আর চীনের সামনে মিত্র দেশগুলোকে কি একপ্রকার অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে আসা হলো? জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন, আজকের এই অতি ব্যয় আগামীকালের কোনো বড় যুদ্ধে আমাদের হাত বেঁধে ফেলবে না তো?
যুদ্ধের উন্মাদনার মাঝে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। একটি টমাহক মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আঘাত হেনেছে ইরানের এক স্কুল প্রাঙ্গণে। তেহরানের দাবি, ১৭৫ জন নিষ্পাপ শিশুর রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রণভূমি। যদিও পেন্টাগন দায় স্বীকার করেনি, কিন্তু ভিডিও ফুটেজ বলছে অন্য কথা।
ইরানি ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলা করতে আমেরিকা এখন দ্বারস্থ হয়েছে ইউক্রেনীয় যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের। কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়াই করার অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগানো হচ্ছে আরবদের মরুভূমিতে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই নতুন রসায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে হলে এখন অভিজ্ঞতাই শেষ কথা।
'সংখ্যাতত্ত্বের নিজস্ব একটা গুণ আছে', স্ট্যালিনের সেই বিখ্যাত উক্তিটি যেন এখন পেন্টাগনের গলার কাঁটা। ইরানি প্রতিরোধ হয়তো ভেঙে পড়ছে, কিন্তু আমেরিকার অস্ত্রাগার যে শূন্য হচ্ছে, তা বেইজিংয়ের নজর এড়াচ্ছে না। ইরান যুদ্ধের এই জয় কি তবে ভবিষ্যতের কোনো বড় পরাজয়ের বীজ বপন করছে? টমাহকের অভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব মানচিত্রে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের অবসান ঘটাবে? প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের জন্য আরো এক দুঃসংবাদ
ইরানের চালে সব হারাচ্ছে আমেরিকা
রণক্ষেত্রে বাজছে যুদ্ধের দামামা, কিন্তু ওয়াশিংটনের অন্দরমহলে এখন ভয়ের প্রতিধ্বনি। পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি যখন ইরানি ড্রোন আর মিসাইলের আগুনে উত্তপ্ত, ঠিক তখনই সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য।
মার্কিন সামরিক শক্তির অহংকার, সেই বিখ্যাত টমাহক ক্রুজ মিসাইলের ভাণ্ডার কি তবে শূন্য হতে চলেছে? পেন্টাগনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এখন একটাই প্রশ্ন, ইরানকে দমাতে গিয়ে কি প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সামনে নিজেদের নিরস্ত্র করে ফেলছে আমেরিকা?
অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ৭২ ঘণ্টাতেই পেন্টাগন খরচ করে ফেলেছে ৪০০-এর বেশি টমাহক মিসাইল। আকাশপথে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া এই মরণাস্ত্রগুলো ইরানের এয়ার ডিফেন্স তছনছ করলেও, খোদ মার্কিন নৌবাহিনীর অস্ত্রাগারের মজুদ এখন তলানিতে। যে গতিতে মিসাইল ছোড়া হচ্ছে, সেই গতিতে তা তৈরির সক্ষমতা কি আদৌ আছে মার্কিন অস্ত্র কারখানাগুলোর?
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রণকৌশল বদলাতে বাধ্য হচ্ছে হোয়াইট হাউস। আকাশচুম্বী দামের টমাহকের বদলে এখন ময়দানে নামানো হচ্ছে বি-৫২ আর বি-১ বোমারু বিমান। লক্ষ্য একটাই, ব্যয়বহুল মিসাইল বাঁচিয়ে সস্তা জেইড্যাম (JDAM) গাইডেড বোমায় ইরানকে কুপোকাত করা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই বাজেট অপটিমাইজেশন কি যুদ্ধের ময়দানে আমেরিকার মারকুটে ইমেজকে ক্ষুণ্ন করছে না?
এদিকে ওয়াশিংটনের মসনদ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছুড়ে দিয়েছেন এক নজিরবিহীন হুংকার। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির জায়ান্ট কোম্পানি লকহিড মার্টিন আর আরটিএক্স-কে (RTX) স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, 'আগে মিসাইল দাও, পরে লভ্যাংশ'। নতুন এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক বা ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না।
যুদ্ধের বাজারে কর্পোরেট মুনাফায় এমন কুঠারাঘাত আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা কাজ করছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে সামলাতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে থাড (THAAD) আর প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি। এতে করে উত্তর কোরিয়া আর চীনের সামনে মিত্র দেশগুলোকে কি একপ্রকার অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে আসা হলো? জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন, আজকের এই অতি ব্যয় আগামীকালের কোনো বড় যুদ্ধে আমাদের হাত বেঁধে ফেলবে না তো?
যুদ্ধের উন্মাদনার মাঝে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। একটি টমাহক মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আঘাত হেনেছে ইরানের এক স্কুল প্রাঙ্গণে। তেহরানের দাবি, ১৭৫ জন নিষ্পাপ শিশুর রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রণভূমি। যদিও পেন্টাগন দায় স্বীকার করেনি, কিন্তু ভিডিও ফুটেজ বলছে অন্য কথা।
ইরানি ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলা করতে আমেরিকা এখন দ্বারস্থ হয়েছে ইউক্রেনীয় যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের। কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়াই করার অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগানো হচ্ছে আরবদের মরুভূমিতে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই নতুন রসায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে হলে এখন অভিজ্ঞতাই শেষ কথা।
'সংখ্যাতত্ত্বের নিজস্ব একটা গুণ আছে', স্ট্যালিনের সেই বিখ্যাত উক্তিটি যেন এখন পেন্টাগনের গলার কাঁটা। ইরানি প্রতিরোধ হয়তো ভেঙে পড়ছে, কিন্তু আমেরিকার অস্ত্রাগার যে শূন্য হচ্ছে, তা বেইজিংয়ের নজর এড়াচ্ছে না। ইরান যুদ্ধের এই জয় কি তবে ভবিষ্যতের কোনো বড় পরাজয়ের বীজ বপন করছে? টমাহকের অভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব মানচিত্রে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের অবসান ঘটাবে? প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আপনার মতামত লিখুন