যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি-তে।
শিপিং ডেটা অনুযায়ী, প্রণালির দুই প্রবেশমুখেই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, অন্তত ১৫০টি বিশালাকার তেল ও এলএনজি ট্যাংকার এখন প্রণালির বাইরে খোলা সমুদ্রে নোঙর ফেলে অপেক্ষা করছে।
জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)ও এই রুটেই রপ্তানি হয়।
বর্তমানে প্রণালির এক প্রান্তে ইরান উপকূলসংলগ্ন এলাকায় এবং অন্য প্রান্তে ওমান উপসাগরের দিকে বহু জাহাজ অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষ এবং মাইন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় জাহাজগুলো অগ্রসর হচ্ছে না বলে শিপিং সূত্র জানিয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ইউরোপ ও এশিয়ার গ্যাস বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।
এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে কার্যত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তার ওপর নির্ভর করবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরবর্তী

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি-তে।
শিপিং ডেটা অনুযায়ী, প্রণালির দুই প্রবেশমুখেই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, অন্তত ১৫০টি বিশালাকার তেল ও এলএনজি ট্যাংকার এখন প্রণালির বাইরে খোলা সমুদ্রে নোঙর ফেলে অপেক্ষা করছে।
জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)ও এই রুটেই রপ্তানি হয়।
বর্তমানে প্রণালির এক প্রান্তে ইরান উপকূলসংলগ্ন এলাকায় এবং অন্য প্রান্তে ওমান উপসাগরের দিকে বহু জাহাজ অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষ এবং মাইন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় জাহাজগুলো অগ্রসর হচ্ছে না বলে শিপিং সূত্র জানিয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ইউরোপ ও এশিয়ার গ্যাস বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।
এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে কার্যত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তার ওপর নির্ভর করবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরবর্তী

আপনার মতামত লিখুন