মাত্র ১১ মিনিটে একদলীয় শাসন: ২৫ জানুয়ারি ও বাকশাল অধ্যায়
আজ ২৫ জানুয়ারি—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বিতর্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী কার্যকর করেন। এর মধ্য দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরিচিত হয় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামে।
সেদিন জাতীয় সংসদে মাত্র ১১ মিনিটের আলোচনার মধ্যেই চতুর্থ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর ফলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়, বহুদলীয় রাজনীতি বাতিল হয় এবং সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও বিলুপ্ত করে বাকশালে রূপান্তর করা হয়।
চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির হাতে ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সীমিত হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং দেশের সব গণমাধ্যমকে কয়েকটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকায় সীমাবদ্ধ করা হয়।
সমর্থকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সমালোচকদের ভাষায়, এটি ছিল গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
বাকশাল ব্যবস্থা কার্যকর ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য। একই বছরের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর এই একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে এবং পরবর্তীতে দেশে বহুদলীয় রাজনীতির পথ আবার উন্মুক্ত হয়।

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
মাত্র ১১ মিনিটে একদলীয় শাসন: ২৫ জানুয়ারি ও বাকশাল অধ্যায়
আজ ২৫ জানুয়ারি—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বিতর্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী কার্যকর করেন। এর মধ্য দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরিচিত হয় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামে।
সেদিন জাতীয় সংসদে মাত্র ১১ মিনিটের আলোচনার মধ্যেই চতুর্থ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর ফলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়, বহুদলীয় রাজনীতি বাতিল হয় এবং সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও বিলুপ্ত করে বাকশালে রূপান্তর করা হয়।
চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির হাতে ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সীমিত হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং দেশের সব গণমাধ্যমকে কয়েকটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকায় সীমাবদ্ধ করা হয়।
সমর্থকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সমালোচকদের ভাষায়, এটি ছিল গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার একটি নজিরবিহীন ঘটনা।
বাকশাল ব্যবস্থা কার্যকর ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য। একই বছরের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর এই একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে এবং পরবর্তীতে দেশে বহুদলীয় রাজনীতির পথ আবার উন্মুক্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন