নির্বাচনে টুপি-ঘোমটা কি ভোট বাড়ায়?
পোশাক ও ধর্মের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনি রাজনীতিতে
নির্বাচন এলেই বদলে যায় অনেক প্রার্থীর বাহ্যিক রূপ। হঠাৎ করেই কারও মাথায় দেখা যায় টুপি, কারও গায়ে পাঞ্জাবি, আবার নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ঘোমটা বা শাল ব্যবহারের প্রবণতাও চোখে পড়ে। উদারপন্থি, বামপন্থি কিংবা স্বতন্ত্র—প্রায় সব ধরনের রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যেই এই পোশাকগত পরিবর্তন এখন স্পষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চার বিষয় নয়; বরং এটি নির্বাচনি জনসংযোগের একটি কৌশল। ভোটারদের একটি বড় অংশের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে উপস্থাপন করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচারণা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর পাশাপাশি উদারপন্থি ও ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করা দলগুলোর প্রার্থীরাও ভোটের মাঠে ধর্মীয় প্রতীক, ভাষা কিংবা পোশাক ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ধর্মপ্রবণ এলাকায় এসব কৌশল তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন,
“পোশাক নিজে ভোট দেয় না, কিন্তু পোশাকের মাধ্যমে প্রার্থীর পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে ভোটারের মনে একটি বার্তা পৌঁছে যায়। অনেক প্রার্থী সেই মনস্তাত্ত্বিক জায়গাটিই কাজে লাগাতে চান।”
তবে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতে সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোট চাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে ধর্মীয় স্লোগান বা উপাসনালয়কেন্দ্রিক প্রচারণা সীমিত হলেও প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে অনেক সময় সেই সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, পোশাক বা বাহ্যিক উপস্থাপনা নয়—প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও অতীত কর্মকাণ্ডই হওয়া উচিত ভোট দেওয়ার মূল বিবেচ্য বিষয়। তারা বলছেন, “টুপি-পাঞ্জাবি পরে এলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না, কাজ দিয়েই প্রমাণ দিতে হয়।”
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—টুপি, ঘোমটা বা ধর্মীয় পোশাক কি সত্যিই ভোট বাড়ায়, নাকি এটি কেবল নির্বাচনি মৌসুমের সাময়িক কৌশল? সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভোটারদের হাতেই।

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনে টুপি-ঘোমটা কি ভোট বাড়ায়?
পোশাক ও ধর্মের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনি রাজনীতিতে
নির্বাচন এলেই বদলে যায় অনেক প্রার্থীর বাহ্যিক রূপ। হঠাৎ করেই কারও মাথায় দেখা যায় টুপি, কারও গায়ে পাঞ্জাবি, আবার নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ঘোমটা বা শাল ব্যবহারের প্রবণতাও চোখে পড়ে। উদারপন্থি, বামপন্থি কিংবা স্বতন্ত্র—প্রায় সব ধরনের রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যেই এই পোশাকগত পরিবর্তন এখন স্পষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চার বিষয় নয়; বরং এটি নির্বাচনি জনসংযোগের একটি কৌশল। ভোটারদের একটি বড় অংশের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে উপস্থাপন করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচারণা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর পাশাপাশি উদারপন্থি ও ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করা দলগুলোর প্রার্থীরাও ভোটের মাঠে ধর্মীয় প্রতীক, ভাষা কিংবা পোশাক ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ধর্মপ্রবণ এলাকায় এসব কৌশল তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন,
“পোশাক নিজে ভোট দেয় না, কিন্তু পোশাকের মাধ্যমে প্রার্থীর পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে ভোটারের মনে একটি বার্তা পৌঁছে যায়। অনেক প্রার্থী সেই মনস্তাত্ত্বিক জায়গাটিই কাজে লাগাতে চান।”
তবে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতে সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোট চাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে ধর্মীয় স্লোগান বা উপাসনালয়কেন্দ্রিক প্রচারণা সীমিত হলেও প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে অনেক সময় সেই সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, পোশাক বা বাহ্যিক উপস্থাপনা নয়—প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও অতীত কর্মকাণ্ডই হওয়া উচিত ভোট দেওয়ার মূল বিবেচ্য বিষয়। তারা বলছেন, “টুপি-পাঞ্জাবি পরে এলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না, কাজ দিয়েই প্রমাণ দিতে হয়।”
সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—টুপি, ঘোমটা বা ধর্মীয় পোশাক কি সত্যিই ভোট বাড়ায়, নাকি এটি কেবল নির্বাচনি মৌসুমের সাময়িক কৌশল? সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভোটারদের হাতেই।

আপনার মতামত লিখুন