ডি এস কে টিভি চ্যানেল

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় প্রভাব: সফল নাকি সীমাবদ্ধ?

দেশের মর্যাদা থেকে ক্রিকেট বড় নয়

দেশের মর্যাদা থেকে ক্রিকেট বড় নয়
ছবি সংগৃহীত

১৯৪৭ থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ব্যালেন্স

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় প্রভাব: সফল নাকি সীমাবদ্ধ?

ভারত ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর থেকেই নিজের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করে প্রায়শই দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী শক্তি হওয়ার প্রচেষ্টা করেছে। তবে এই প্রচেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে— এমন বলা যায় না।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ও ভারত একে-অপরের বিরোধে আবদ্ধ ছিল। ১৯৭১ সালে ভারত পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করায় একটি ক্ষমতাশালী অঞ্চল-অভিযানকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তি প্রদর্শন করেছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই সফল হস্তক্ষেপ ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক খেলোয়াড় বানিয়েছিল। 

পরবর্তী সময় ভারত তার প্রতিবেশী নীতিতে Neighbourhood First ও Act East নীতির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সাইড-এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। 

তবে বাস্তবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ও অনৈতিক মতাদর্শগত ভিন্নতা এমন ভাবে শক্তিশালী প্রভাব প্রদানে বাধা সৃষ্টি করেছে যে, ভারতের প্রভাব সবদিক থেকে সবসময় অটুট বা আধিপত্যশীল ছিল না। বিশেষ করে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান ও ভারতের পাশাপাশি চীন ও অন্যান্য বড় শক্তিগুলোর ভূমিকা ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব বাধাগ্রস্ত করেছে। 

???? সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নির্দিষ্ট সাফল্য, কৌশলগত সম্পর্ক ও স্থিতিশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন করলেও “দক্ষিণ এশিয়ার একচেটিয়া প্রভু” হিসেবে বিকশিত হয়নি।

???? ২০১৪-এর পর নরেন্দ্র মোদির অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ধারণা

নরেন্দ্র মোদি ও বিশ্ব নেতৃত্বের দাবির পরিপ্রেক্ষিত:

২০১৪ থেকে বর্তমান পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাজানো কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্যোগগুলোকে তুলে ধরেছেন, যাতে দেশটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশি দৃশ্যমান ও সক্রিয় হয়।

Act East, Neighbourhood First ও Link West নীতিগুলোতে তিনি ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করেছেন। 

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকরা আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের ভূমিকাকে “বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন—যেমন নতুন বই Why Bharat Matters এ ভারতের উন্নত অবস্থান ও বিশ্বব্যাপী ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু “বিশ্বগুরু” বা বিশ্বে একচেটিয়া নেতৃত্বের দাবিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাধারণত প্রত্যক্ষভাবে গ্রহণযোগ্য হিসাবে দেখা হয় না।

অর্থাৎ, ভারতের বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বের দাবিটি বেশিরভাগটাই রেটোরিক বা নীতি-নির্ধারকের ব্যাখ্যা, এবং তা জাতিসংঘ, G20 বা বড় শক্তির সামরিক/অর্থনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপিত হয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাবই বাড়ছে, কিন্তু তা “বিশ্বগুরু” পর্যায়ে পৌঁছায়নি। 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬


দেশের মর্যাদা থেকে ক্রিকেট বড় নয়

প্রকাশের তারিখ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

১৯৪৭ থেকে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ব্যালেন্স

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় প্রভাব: সফল নাকি সীমাবদ্ধ?

ভারত ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর থেকেই নিজের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করে প্রায়শই দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী শক্তি হওয়ার প্রচেষ্টা করেছে। তবে এই প্রচেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে— এমন বলা যায় না।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ও ভারত একে-অপরের বিরোধে আবদ্ধ ছিল। ১৯৭১ সালে ভারত পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করায় একটি ক্ষমতাশালী অঞ্চল-অভিযানকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তি প্রদর্শন করেছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই সফল হস্তক্ষেপ ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক খেলোয়াড় বানিয়েছিল। 

পরবর্তী সময় ভারত তার প্রতিবেশী নীতিতে Neighbourhood First ও Act East নীতির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সাইড-এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। 

তবে বাস্তবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ও অনৈতিক মতাদর্শগত ভিন্নতা এমন ভাবে শক্তিশালী প্রভাব প্রদানে বাধা সৃষ্টি করেছে যে, ভারতের প্রভাব সবদিক থেকে সবসময় অটুট বা আধিপত্যশীল ছিল না। বিশেষ করে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মতো দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান ও ভারতের পাশাপাশি চীন ও অন্যান্য বড় শক্তিগুলোর ভূমিকা ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব বাধাগ্রস্ত করেছে। 

???? সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নির্দিষ্ট সাফল্য, কৌশলগত সম্পর্ক ও স্থিতিশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন করলেও “দক্ষিণ এশিয়ার একচেটিয়া প্রভু” হিসেবে বিকশিত হয়নি।

???? ২০১৪-এর পর নরেন্দ্র মোদির অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ধারণা

নরেন্দ্র মোদি ও বিশ্ব নেতৃত্বের দাবির পরিপ্রেক্ষিত:

২০১৪ থেকে বর্তমান পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাজানো কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্যোগগুলোকে তুলে ধরেছেন, যাতে দেশটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশি দৃশ্যমান ও সক্রিয় হয়।

Act East, Neighbourhood First ও Link West নীতিগুলোতে তিনি ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করেছেন। 

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকরা আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের ভূমিকাকে “বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন—যেমন নতুন বই Why Bharat Matters এ ভারতের উন্নত অবস্থান ও বিশ্বব্যাপী ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু “বিশ্বগুরু” বা বিশ্বে একচেটিয়া নেতৃত্বের দাবিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাধারণত প্রত্যক্ষভাবে গ্রহণযোগ্য হিসাবে দেখা হয় না।

অর্থাৎ, ভারতের বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বের দাবিটি বেশিরভাগটাই রেটোরিক বা নীতি-নির্ধারকের ব্যাখ্যা, এবং তা জাতিসংঘ, G20 বা বড় শক্তির সামরিক/অর্থনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপিত হয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাবই বাড়ছে, কিন্তু তা “বিশ্বগুরু” পর্যায়ে পৌঁছায়নি। 


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল