দুই দিনে শিল্প খাতে স্ট্রং প্রতিক্রিয়া এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। ঘরোয়া স্পিনিং শিল্পকে রক্ষা ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকার ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট মানের সুতা আমদানি ক্ষেত্রে বন্ডেড (শুল্কমুক্ত) সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে, যা রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
১. সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনার পটভূমি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশন ১২ জানুয়ারি ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR)-কে চিঠি দিয়ে ১০–৩০ কাউন্টের সুতা আমদানির বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে, যাতে দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য সংযোজন অর্জন করা সম্ভব হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী এই সুবিধা চলমান বন্ধ রাখতে হলে শুল্ক আরোপ হতে পারে।
২. বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র দাবিসমূহ
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA) আজ (১৯ জানুয়ারি) যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, সুতা আমদানি শুল্কমুক্ত সুবিধা যদি প্রত্যাহার করা হয় তা হলে তৈরি পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হবে। তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত শিল্পের ব্যয় বাড়াবে ও বিপণনে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে পিছিয়ে ফেলবে।
৩. শিল্প নেতাদের হুঁশিয়ারি
শীর্ষ পোশাক খাতের নেতারা নিখুঁত সরবরাহ ও ব্যয় কম রাখার সক্ষমতা সংকটের মধ্যে বলছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হবে। যদি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তবে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন — এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
৪. সরকারি যুক্তি ও বিরোধিতার কারণ
সরকার বলছে, দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্পিনিং শিল্পকে শক্তিশালী করতে, অভ্যন্তরীণ যোগান-শৃঙ্খলা উন্নত করতে এবং এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কশর্ত পূরণে স্থানীয় সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানিকারকরা বলছেন, বর্তমানে আমদানি করা সুতা রপ্তানিতে খরচ কম রাখে এবং এই সুবিধা প্রত্যাহার করলে মূল্য বৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হ্রাস করবে।
৫. পারস্পরিক অবস্থান ও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি
এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি, তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তা রপ্তানি খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
দুই দিনে শিল্প খাতে স্ট্রং প্রতিক্রিয়া এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। ঘরোয়া স্পিনিং শিল্পকে রক্ষা ও মূল্য সংযোজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকার ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট মানের সুতা আমদানি ক্ষেত্রে বন্ডেড (শুল্কমুক্ত) সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে, যা রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
১. সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনার পটভূমি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশন ১২ জানুয়ারি ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR)-কে চিঠি দিয়ে ১০–৩০ কাউন্টের সুতা আমদানির বন্ডেড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে, যাতে দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে উচ্চমূল্য সংযোজন অর্জন করা সম্ভব হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী এই সুবিধা চলমান বন্ধ রাখতে হলে শুল্ক আরোপ হতে পারে।
২. বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র দাবিসমূহ
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA) আজ (১৯ জানুয়ারি) যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, সুতা আমদানি শুল্কমুক্ত সুবিধা যদি প্রত্যাহার করা হয় তা হলে তৈরি পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হবে। তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত শিল্পের ব্যয় বাড়াবে ও বিপণনে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে পিছিয়ে ফেলবে।
৩. শিল্প নেতাদের হুঁশিয়ারি
শীর্ষ পোশাক খাতের নেতারা নিখুঁত সরবরাহ ও ব্যয় কম রাখার সক্ষমতা সংকটের মধ্যে বলছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হবে। যদি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তবে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন — এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
৪. সরকারি যুক্তি ও বিরোধিতার কারণ
সরকার বলছে, দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্পিনিং শিল্পকে শক্তিশালী করতে, অভ্যন্তরীণ যোগান-শৃঙ্খলা উন্নত করতে এবং এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কশর্ত পূরণে স্থানীয় সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানিকারকরা বলছেন, বর্তমানে আমদানি করা সুতা রপ্তানিতে খরচ কম রাখে এবং এই সুবিধা প্রত্যাহার করলে মূল্য বৃদ্ধির চাপ তৈরি হবে যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হ্রাস করবে।
৫. পারস্পরিক অবস্থান ও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি
এখন পর্যন্ত ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি, তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তা রপ্তানি খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন