টানা ১৪ দিনের বিক্ষোভে উত্তাল ইরান
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত অন্তত ১৯২
তেহরান: টানা ১৪ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
কী থেকে শুরু
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হলেও, দ্রুতই তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী তেহরান ছাড়াও মাশহাদ, ইসফাহান, তাবরিজ, আহভাজসহ বহু শহরে প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে।
সহিংস দমন-পীড়ন
মানবাধিকার সংগঠন Iran Human Rights জানায়, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে জীবন্ত গুলি ব্যবহার করছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও তরুণদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
বিক্ষোভের তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ আংশিক কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অনেককে গোপন স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
সরকারের অবস্থান
ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার’ অভিযোগ তুলেছে। সরকারপক্ষের দাবি, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই এই আন্দোলন উসকে দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা অনেক কম দেখানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে?
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর দমন-পীড়নের পরও আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
টানা ১৪ দিনের বিক্ষোভে উত্তাল ইরান
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত অন্তত ১৯২
তেহরান: টানা ১৪ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
কী থেকে শুরু
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হলেও, দ্রুতই তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী তেহরান ছাড়াও মাশহাদ, ইসফাহান, তাবরিজ, আহভাজসহ বহু শহরে প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে।
সহিংস দমন-পীড়ন
মানবাধিকার সংগঠন Iran Human Rights জানায়, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে জীবন্ত গুলি ব্যবহার করছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও তরুণদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
বিক্ষোভের তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ আংশিক কিংবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অনেককে গোপন স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
সরকারের অবস্থান
ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার’ অভিযোগ তুলেছে। সরকারপক্ষের দাবি, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই এই আন্দোলন উসকে দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা অনেক কম দেখানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে?
বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর দমন-পীড়নের পরও আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন