ডি এস কে টিভি চ্যানেল

শামসুল আলম

শামসুল আলম


সিলেট ৫ আসনে চাকসু মামুনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা

সিলেট ৫ আসনে চাকসু মামুনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা দল থেকে বহিষ্কার, তবুও ভোটের মাঠে দাপট ছাড়েননি চাকসু মামুন! সিলেট-৫ আসনের রাজনীতিতে তিনি রীতিমতো এক ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন। যে বিদ্রোহের আগুন তিনি জ্বালিয়েছিলেন, তা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত পর্যন্ত নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই ঝড়ের শেষটা কেমন ছিল? মনোনয়ন বৈধ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে শুরু, আজ আমরা ফিরে দেখব জাতীয় নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত আসন, সিলেট-৫, অর্থাৎ জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের সেই উত্তাল নির্বাচনের আদ্যোপান্ত, আর সবশেষে জনগণের রায়ের সেই জটিল সমীকরণ।ঘটনার শুরু নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে। সব দল যখন প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত, তখনই সিলেট-৫ থেকে আসা একটি খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়। বিএনপি থেকে বহিষ্কারের হুমকি মাথায় নিয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন সিলেট জেলা বিএনপির তৎকালীন সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ, যিনি সবার কাছে ‘চাকসু মামুন’ নামেই বেশি পরিচিত।[TECHTARANGA-POST:1198]এরপরই আসে সেই  মুহূর্ত। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এই একটা ঘোষণাই যেন আগুনে ঘি ঢালে। চাকসু মামুনের সমর্থকরা এটাকে তাদের প্রথম বিজয় হিসেবে দেখতে শুরু করে। অন্যদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের নামে অস্বস্তির ছায়া। প্রশ্ন ওঠে, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে একজন প্রার্থী ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন? এই বৈধতা কি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের ভোটের সব হিসাব পাল্টে দেবে? অনেকেই চাকসু মামুনের এই পদক্ষেপকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জুয়া বলে মনে করছিলেন।কিন্তু কেন চাকসু মামুন দলের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত নিলেন? এর উত্তর খুঁজতে হলে একটু পেছনে যেতে হবে। মামুনুর রশীদ দীর্ঘদিন ধরেই সিলেট-৫ আসনে বিএনপির একজন শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বছরের পর বছর তিনি এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, তৈরি করেছিলেন নিজের একটা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আর সমর্থক গোষ্ঠী। তার সমর্থকদেরও বিশ্বাস ছিল, এবারের নির্বাচনে বিএনপি তাকেই বেছে নেবে।কিন্তু জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ আর জোটের হিসাব প্রায়ই স্থানীয় নেতাকর্মীদের ইচ্ছার সঙ্গে মেলে না। বিএনপি এবার সিলেট-৫ আসনটি তাদের জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেয়। জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।[TECHTARANGA-POST:1188]কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত চাকসু মামুন ও তার অনুসারীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। তাদের ভাষ্যমতে, এলাকার বাস্তবতা আর জনপ্রিয়তা বিবেচনা না করে শুধু জোট টিকিয়ে রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামুনুর রশীদের দাবি, তিনি নিজের ইচ্ছায় নয়, বরং এলাকাবাসীর চাপ আর প্রত্যাশার কারণেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বারবার বলছিলেন, তিনি কোনো দলের নন, বরং মানুষের আস্থার প্রতিনিধি হতে চান।যখন কোনো নেতা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যান, তখন দলের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। চাকসু মামুনের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করে।২০২৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুধু চাকসু মামুনই নন, সে সময় দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় আরও কয়েকজন নেতাকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছিল। এই বহিষ্কারের মাধ্যমে বিএনপি একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছিল—দলের শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউই নন। এই ঘটনা সিলেটের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। একদিকে দলের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে একজন জনপ্রিয় নেতার বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে সিলেট-৫ আসন নির্বাচনের আগেই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।চাকসু মামুনের বহিষ্কার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার টিকে থাকা নিঃসন্দেহে ভোটের মাঠে এক নতুন ও জটিল সমীকরণ তৈরি করেছিল। এতদিনকার দ্বি-দলীয় বা দ্বি-জোটের লড়াই এবার হয়ে ওঠে এক বহুমুখী প্রতিযোগিতা।মাঠে প্রধান প্রতিযোগী ছিলেন তিনজন। প্রথমত, বিএনপি-জমিয়ত জোটের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, যার পেছনে ছিল দুটি বড় দলের সাংগঠনিক শক্তি। দ্বিতীয়ত, চাকসু মামুন, যার মূল শক্তি ছিল তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আর জোটের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিএনপি-মনোভাবাপন্ন ভোটারদের একটা বড় অংশ। আর তৃতীয়জন ছিলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীএখানে আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই। একজন নেতার জন্য কোনটা বেশি জরুরি—দলের প্রতি আনুগত্য, নাকি এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, যা তাকে বিদ্রোহী হতেও বাধ্য করে? চাকসু মামুনের এই পদক্ষেপকে আপনারা কীভাবে দেখছেন? আপনার বিশ্লেষণ আমাদের জানান নিচের কমেন্ট বক্সে।সিলেট-৫ আসনে চাকসু মামুনের বিদ্রোহ আর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটা দারুণ উদাহরণ। এটা আমাদের দেখায় যে, রাজনীতিতে আবেগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা কতটা জরুরি। একজন জনপ্রিয় নেতা যখন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যান, তার ফলাফল কতটা অপ্রত্যাশিত হতে পারে, এই নির্বাচন তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।[TECHTARANGA-POST:1128]শেষ পর্যন্ত, জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষ দলের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছে, কিন্তু সেই ব্যক্তি চাকসু মামুন ছিলেন ছিলেন  চাকসু মামুনের এই অধ্যায়টি হয়তো সিলেটের রাজনীতিতে একটি বড় শিক্ষা হয়েই থাকবে। আর বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীই বা মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবেন, সময়ই তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নেবে।এই পুরো ঘটনা নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্টে আমাদের জানান। এমন আরও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য আমাদের সাথে থাকুন। ধন্যবাদ।

 সিলেট ৫ আসনে চাকসু মামুনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা