ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রংপুর

রংপুরে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে হার্ট অ্যা'টাকে শিক্ষকের মৃ'ত্যু

রংপুর নগরীতে মোটরসাইকেলের তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে মেহেদী হাসান (৩২) নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে—একটি সাধারণ দিনের শেষে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর টার্মিনাল এলাকার সুরমা ফিলিং স্টেশনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্যান্য দিনের মতোই তেল নিতে পাম্পে যান মেহেদী হাসান। কিন্তু সেদিন পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল, ফলে তাকে বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অপেক্ষার এক পর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।[TECHTARANGA-POST:2808]স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।নিহত মেহেদী হাসান নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি লাহিড়ীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজের শিক্ষাজীবনও এগিয়ে নিচ্ছিলেন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, ভদ্র এবং দায়িত্বশীল একজন মানুষ।তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, সুস্থ-স্বাভাবিক একজন মানুষ হঠাৎ করে এমনভাবে না ফেরার দেশে চলে যেতে পারেন। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।এই ঘটনা আবারও জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, মানসিক চাপ বা শারীরিক ক্লান্তি অনেক সময় হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—বিশেষ করে যদি আগে থেকে কোনো অজানা সমস্যা থেকে থাকে।একজন তরুণ শিক্ষক, যিনি একদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলছিলেন, অন্যদিকে নিজের স্বপ্নও এগিয়ে নিচ্ছিলেন—তার এমন অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে

রংপুরে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে হার্ট অ্যা'টাকে শিক্ষকের মৃ'ত্যু