পানি ছাড়াই মাটির নিচে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে যে মাছ
মাছ মানেই পানির প্রাণী—এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় এক বিস্ময়কর প্রজাতি। প্রকৃতিতে এমন একটি মাছ রয়েছে, যা পানি ছাড়াই বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আফ্রিকান লাংফিশ ঠিক এই কাজটাই করে আসছে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। বিশেষ করে খরাপ্রবণ আফ্রিকা অঞ্চলে এই মাছের জীবনধারণের কৌশল বিজ্ঞানীদের নতুন করে বিস্মিত করেছে।
কীভাবে বেঁচে থাকে?
সাধারণ মাছ ফুলকার সাহায্যে পানির নিচে শ্বাস নেয়। কিন্তু আফ্রিকান লাংফিশের রয়েছে উন্নত ফুসফুস, যা মানুষের মতোই বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। জলাশয় শুকিয়ে গেলে এরা দ্রুত কাদার নিচে আশ্রয় নেয়।
প্রায় ২ থেকে ৪ ফুট গভীরে গর্ত তৈরি করে
শরীরের চারপাশে কাদা ও শ্লেষ্মা দিয়ে কোকুন তৈরি করে
বিপাকক্রিয়া অত্যন্ত কমিয়ে ‘ঘুমন্ত’ অবস্থায় চলে যায়
এই অবস্থায় কয়েক মাস নয়, কখনও কয়েক বছরও টিকে থাকতে পারে
বৃষ্টির অপেক্ষায় দীর্ঘ নিদ্রা
যখন আবার বৃষ্টি হয় এবং জলাশয়ে পানি ফিরে আসে, তখন এই মাছ ধীরে ধীরে কাদার আবরণ ভেঙে বের হয়ে আসে। এরপর স্বাভাবিকভাবে সাঁতার কেটে জীবনযাপন শুরু করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই মাছের বেঁচে থাকার কৌশল—যাকে ‘এস্টিভেশন’ বলা হয়—ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞান, মহাকাশ ভ্রমণ এবং দীর্ঘ সময়ের জীবন্ত সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে নতুন ধারণা দিতে পারে।
প্রকৃতির এই আশ্চর্য উদাহরণ আবারও দেখায়, বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীরা কত অসাধারণ উপায় আবিষ্কার করে নিয়েছে।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
পানি ছাড়াই মাটির নিচে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে যে মাছ
মাছ মানেই পানির প্রাণী—এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় এক বিস্ময়কর প্রজাতি। প্রকৃতিতে এমন একটি মাছ রয়েছে, যা পানি ছাড়াই বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, আফ্রিকান লাংফিশ ঠিক এই কাজটাই করে আসছে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে। বিশেষ করে খরাপ্রবণ আফ্রিকা অঞ্চলে এই মাছের জীবনধারণের কৌশল বিজ্ঞানীদের নতুন করে বিস্মিত করেছে।
কীভাবে বেঁচে থাকে?
সাধারণ মাছ ফুলকার সাহায্যে পানির নিচে শ্বাস নেয়। কিন্তু আফ্রিকান লাংফিশের রয়েছে উন্নত ফুসফুস, যা মানুষের মতোই বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। জলাশয় শুকিয়ে গেলে এরা দ্রুত কাদার নিচে আশ্রয় নেয়।
প্রায় ২ থেকে ৪ ফুট গভীরে গর্ত তৈরি করে
শরীরের চারপাশে কাদা ও শ্লেষ্মা দিয়ে কোকুন তৈরি করে
বিপাকক্রিয়া অত্যন্ত কমিয়ে ‘ঘুমন্ত’ অবস্থায় চলে যায়
এই অবস্থায় কয়েক মাস নয়, কখনও কয়েক বছরও টিকে থাকতে পারে
বৃষ্টির অপেক্ষায় দীর্ঘ নিদ্রা
যখন আবার বৃষ্টি হয় এবং জলাশয়ে পানি ফিরে আসে, তখন এই মাছ ধীরে ধীরে কাদার আবরণ ভেঙে বের হয়ে আসে। এরপর স্বাভাবিকভাবে সাঁতার কেটে জীবনযাপন শুরু করে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই মাছের বেঁচে থাকার কৌশল—যাকে ‘এস্টিভেশন’ বলা হয়—ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞান, মহাকাশ ভ্রমণ এবং দীর্ঘ সময়ের জীবন্ত সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে নতুন ধারণা দিতে পারে।
প্রকৃতির এই আশ্চর্য উদাহরণ আবারও দেখায়, বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীরা কত অসাধারণ উপায় আবিষ্কার করে নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন