ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চলতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে NBC News জানায়, ইরানের পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনা ও উপসাগরীয় তেল অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের ক্রুড অয়েলের দামই দ্রুত বেড়েছে। জ্বালানি খাতের শেয়ার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও প্রযুক্তি, ভ্রমণ ও শিল্প খাতের শেয়ার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
শেয়ারবাজারে ধস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোতে বড় পতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে স্বর্ণ ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দেরি হয়, তবে তা শুধু জ্বালানি মূল্যস্ফীতিই নয়, খাদ্য ও পরিবহন খাতেও মূল্যচাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে—সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হয়, নাকি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, সেটিই নির্ধারণ করবে বিশ্ববাজারের পরবর্তী গতিপথ।

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চলতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে NBC News জানায়, ইরানের পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনা ও উপসাগরীয় তেল অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের ক্রুড অয়েলের দামই দ্রুত বেড়েছে। জ্বালানি খাতের শেয়ার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও প্রযুক্তি, ভ্রমণ ও শিল্প খাতের শেয়ার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
শেয়ারবাজারে ধস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোতে বড় পতন দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে স্বর্ণ ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দেরি হয়, তবে তা শুধু জ্বালানি মূল্যস্ফীতিই নয়, খাদ্য ও পরিবহন খাতেও মূল্যচাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে—সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হয়, নাকি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, সেটিই নির্ধারণ করবে বিশ্ববাজারের পরবর্তী গতিপথ।

আপনার মতামত লিখুন