ডি এস কে টিভি চ্যানেল

হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলেই হাম'লা, হুঁশি'য়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলেই হাম'লা, হুঁশি'য়ারি ইরানের
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করে সেখানে চলাচলকারী যেকোনও জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘোষণা দেন—হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালানো হবে। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও একই ধরনের বার্তা প্রচার করা হয়।

আইআরজিসির প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, ‘প্রণালি বন্ধ। কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নিয়মিত নৌবাহিনী সেই জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে।’ তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। পারস্য উপসাগর থেকে উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর বড় অংশই এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। প্রতিদিন বিশ্বে যে পরিমাণ সমুদ্রপথে তেল পরিবহন হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোও জ্বালানি সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়ছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তার

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা গত কয়েকদিন ধরে দ্রুত বাড়ছে। উভয় পক্ষই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো, যাদের অর্থনীতি জ্বালানি রপ্তানিনির্ভর, তারা চরম চাপে পড়বে।

বৈশ্বিক প্রভাব

হরমুজ প্রণালি কার্যত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ‘লাইফলাইন’। এটি বন্ধ হলে তেলের দাম হঠাৎ করে লাফিয়ে বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে। উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক সংযমের ওপর। তবে আপাতত বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬


হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলেই হাম'লা, হুঁশি'য়ারি ইরানের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করে সেখানে চলাচলকারী যেকোনও জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘোষণা দেন—হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালানো হবে। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও একই ধরনের বার্তা প্রচার করা হয়।

আইআরজিসির প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, ‘প্রণালি বন্ধ। কেউ পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নিয়মিত নৌবাহিনী সেই জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে।’ তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। পারস্য উপসাগর থেকে উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর বড় অংশই এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। প্রতিদিন বিশ্বে যে পরিমাণ সমুদ্রপথে তেল পরিবহন হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোও জ্বালানি সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়ছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তার

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা গত কয়েকদিন ধরে দ্রুত বাড়ছে। উভয় পক্ষই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্রও এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে জড়িত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো, যাদের অর্থনীতি জ্বালানি রপ্তানিনির্ভর, তারা চরম চাপে পড়বে।

বৈশ্বিক প্রভাব

হরমুজ প্রণালি কার্যত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ‘লাইফলাইন’। এটি বন্ধ হলে তেলের দাম হঠাৎ করে লাফিয়ে বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে। উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক সংযমের ওপর। তবে আপাতত বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল