উৎপাদন খরচ আর বাজারদরের ব্যবধান দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। যে বেগুন আড়ত পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩৭ টাকায়, সেটিই রাজধানী ঢাকায় এসে খুচরা বাজারে দাঁড়াচ্ছে ১০০ টাকায়। মাঝখানের এই ব্যবধানের বড় একটি অংশই গিলে খাচ্ছে পথে পথে চাঁদাবাজির ‘অদৃশ্য খরচ’—এমন অভিযোগ করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
আড়ত থেকে শুরু চাঁদার চাপ
গ্রামের হাটে কৃষক যখন তার উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেন, তখনই শুরু হয় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চাপ। পাইকারি বাজারে নেওয়ার আগেই হাট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি স্লিপ। প্রতি মণ সবজির জন্য আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা করে। এটি ‘খাজনা’ নামে নেওয়া হলেও অনেকেই বলছেন, নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ফলে কৃষক যে দামে সবজি বিক্রি করছেন, তার একটি অংশ সরাসরি চলে যাচ্ছে এই খাতে। এতে উৎপাদন খরচের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি বোঝা।
মাঠ থেকে সরাসরি বিক্রিও নিরাপদ নয়
কিছু কৃষক ও পাইকার এই খরচ এড়াতে হাটে না গিয়ে সরাসরি মাঠ থেকে ট্রাকে সবজি তুলছেন। কিন্তু সেখানেও মিলছে না স্বস্তি। অভিযোগ রয়েছে, পথে পথে বিভিন্ন স্থানে থামিয়ে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। কখনও স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, কখনও পরিবহনসংক্রান্ত অজুহাতে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাকপ্রতি নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে না চাইলে দেরি করানো বা হয়রানির আশঙ্কা থাকে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই চাপানো হচ্ছে।
ঢাকায় এসে বাড়ছে দামের স্তর
আড়ত থেকে ঢাকার পাইকারি বাজার, সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতা—প্রতিটি ধাপে যুক্ত হচ্ছে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য খরচ। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, ‘অঘোষিত খরচ’ না থাকলে ৩৭ টাকার বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা নয়।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা উচ্চ দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে দামের লাগাম টানার কার্যকর উদ্যোগ নেই।
সমাধান কোথায়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে এই চক্র ভাঙা কঠিন। হাট ও পরিবহন খাতে নির্ধারিত ফি স্পষ্টভাবে ঘোষণা, ডিজিটাল রসিদ চালু এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাকে স্বস্তি দেওয়া—দুটিই সম্ভব, যদি মধ্যবর্তী অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় বন্ধ করা যায়। নইলে আড়তে ৩৭ টাকা আর ঢাকায় ১০০ টাকার ব্যবধান থেকেই যাবে, আর ভুগবে কৃষক ও সাধারণ মানুষই।

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬
উৎপাদন খরচ আর বাজারদরের ব্যবধান দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। যে বেগুন আড়ত পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩৭ টাকায়, সেটিই রাজধানী ঢাকায় এসে খুচরা বাজারে দাঁড়াচ্ছে ১০০ টাকায়। মাঝখানের এই ব্যবধানের বড় একটি অংশই গিলে খাচ্ছে পথে পথে চাঁদাবাজির ‘অদৃশ্য খরচ’—এমন অভিযোগ করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
আড়ত থেকে শুরু চাঁদার চাপ
গ্রামের হাটে কৃষক যখন তার উৎপাদিত সবজি বিক্রি করেন, তখনই শুরু হয় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চাপ। পাইকারি বাজারে নেওয়ার আগেই হাট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি স্লিপ। প্রতি মণ সবজির জন্য আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা করে। এটি ‘খাজনা’ নামে নেওয়া হলেও অনেকেই বলছেন, নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ফলে কৃষক যে দামে সবজি বিক্রি করছেন, তার একটি অংশ সরাসরি চলে যাচ্ছে এই খাতে। এতে উৎপাদন খরচের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি বোঝা।
মাঠ থেকে সরাসরি বিক্রিও নিরাপদ নয়
কিছু কৃষক ও পাইকার এই খরচ এড়াতে হাটে না গিয়ে সরাসরি মাঠ থেকে ট্রাকে সবজি তুলছেন। কিন্তু সেখানেও মিলছে না স্বস্তি। অভিযোগ রয়েছে, পথে পথে বিভিন্ন স্থানে থামিয়ে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। কখনও স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, কখনও পরিবহনসংক্রান্ত অজুহাতে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।
ট্রাকপ্রতি নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে না চাইলে দেরি করানো বা হয়রানির আশঙ্কা থাকে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই চাপানো হচ্ছে।
ঢাকায় এসে বাড়ছে দামের স্তর
আড়ত থেকে ঢাকার পাইকারি বাজার, সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতা—প্রতিটি ধাপে যুক্ত হচ্ছে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি ও অন্যান্য খরচ। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, ‘অঘোষিত খরচ’ না থাকলে ৩৭ টাকার বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা নয়।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা উচ্চ দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে দামের লাগাম টানার কার্যকর উদ্যোগ নেই।
সমাধান কোথায়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে এই চক্র ভাঙা কঠিন। হাট ও পরিবহন খাতে নির্ধারিত ফি স্পষ্টভাবে ঘোষণা, ডিজিটাল রসিদ চালু এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাকে স্বস্তি দেওয়া—দুটিই সম্ভব, যদি মধ্যবর্তী অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় বন্ধ করা যায়। নইলে আড়তে ৩৭ টাকা আর ঢাকায় ১০০ টাকার ব্যবধান থেকেই যাবে, আর ভুগবে কৃষক ও সাধারণ মানুষই।

আপনার মতামত লিখুন