ডি এস কে টিভি চ্যানেল

বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাতারে হা'মলার পর এলএনজি উৎপাদন বন্ধ, সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান

কাতারে হা'মলার পর এলএনজি উৎপাদন বন্ধ, সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান
ছবি সংগৃহীত

ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান QatarEnergy উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে—এমন খবরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, হামলার জেরে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাতার বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারকদের একটি। এশিয়ার বহু দেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে গ্যাস আমদানি করে থাকে। ফলে উৎপাদন বন্ধ বা কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—এই তিন দেশ কাতারের এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এখানে বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ শৃঙ্খলে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহ কমে গেলে বা দাম বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারকে বাড়তি ভর্তুকি দিতে হতে পারে। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে ভারত ও পাকিস্তানও, যেখানে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত গ্যাসনির্ভর।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাতারের উৎপাদন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এশিয়ার দেশগুলোকে বিকল্প উৎস—যেমন অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পট মার্কেটে উচ্চমূল্যে এলএনজি সংগ্রহ করতে হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়বে এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার গতির ওপর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে অস্থিরতা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
ডি এস কে টিভি চ্যানেল

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬


কাতারে হা'মলার পর এলএনজি উৎপাদন বন্ধ, সবচেয়ে চাপে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদক প্রতিষ্ঠান QatarEnergy উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে—এমন খবরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, হামলার জেরে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাতার বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারকদের একটি। এশিয়ার বহু দেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে গ্যাস আমদানি করে থাকে। ফলে উৎপাদন বন্ধ বা কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—এই তিন দেশ কাতারের এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz–এ জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এখানে বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ শৃঙ্খলে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহ কমে গেলে বা দাম বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারকে বাড়তি ভর্তুকি দিতে হতে পারে। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে ভারত ও পাকিস্তানও, যেখানে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত গ্যাসনির্ভর।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাতারের উৎপাদন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এশিয়ার দেশগুলোকে বিকল্প উৎস—যেমন অস্ট্রেলিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্পট মার্কেটে উচ্চমূল্যে এলএনজি সংগ্রহ করতে হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়বে এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার গতির ওপর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক গ্যাসবাজারে অস্থিরতা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।


ডি এস কে টিভি চ্যানেল

চেয়ারম্যান ও সম্পাদকঃ সামসুল আলম
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আসআদ

কপিরাইট © ২০২৫ ডি এস কে টিভি চ্যানেল