লেবানন সরকার দেশজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সোমবার (২ মার্চ) ইসরায়েল অভিমুখে রকেট নিক্ষেপের পরপরই এই সিদ্ধান্ত আসে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী Nawaf Salam বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহ সরকার ঘোষিত নীতিকে অগ্রাহ্য করেছে। একইসঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun এই পদক্ষেপকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন।
রকেট হামলার পর পাল্টা আঘাত
সোমবার হিজবুল্লাহ ইসরায়েল লক্ষ্য করে একাধিক রকেট ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় সরকার জরুরি বৈঠকে বসে এবং পরবর্তীতে হিজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং লেবাননকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দুজনই সতর্ক করেছেন, এমন পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার “বৈধ অজুহাত” দিতে পারে।
সার্বভৌমত্ব বনাম সশস্ত্র রাজনীতি
হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও, তাদের স্বতন্ত্র সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে বিতর্ক রয়েছে। সরকার বলছে, রাষ্ট্রের বাইরে কোনো সশস্ত্র শক্তি স্বাধীনভাবে যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। কারণ হিজবুল্লাহ শুধু একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, বরং লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনেরও প্রভাবশালী শক্তি। ফলে সামনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।
আঞ্চলিক প্রভাব
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা নতুন নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিরতার মধ্যে ঘটায় তা আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
লেবানন সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
লেবানন সরকার দেশজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সোমবার (২ মার্চ) ইসরায়েল অভিমুখে রকেট নিক্ষেপের পরপরই এই সিদ্ধান্ত আসে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী Nawaf Salam বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহ সরকার ঘোষিত নীতিকে অগ্রাহ্য করেছে। একইসঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun এই পদক্ষেপকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন।
রকেট হামলার পর পাল্টা আঘাত
সোমবার হিজবুল্লাহ ইসরায়েল লক্ষ্য করে একাধিক রকেট ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় সরকার জরুরি বৈঠকে বসে এবং পরবর্তীতে হিজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং লেবাননকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দুজনই সতর্ক করেছেন, এমন পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার “বৈধ অজুহাত” দিতে পারে।
সার্বভৌমত্ব বনাম সশস্ত্র রাজনীতি
হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও, তাদের স্বতন্ত্র সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে বিতর্ক রয়েছে। সরকার বলছে, রাষ্ট্রের বাইরে কোনো সশস্ত্র শক্তি স্বাধীনভাবে যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। কারণ হিজবুল্লাহ শুধু একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, বরং লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনেরও প্রভাবশালী শক্তি। ফলে সামনে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।
আঞ্চলিক প্রভাব
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা নতুন নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিরতার মধ্যে ঘটায় তা আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
লেবানন সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন