সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি Saudi Aramco পরিচালিত রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ইরানের শাহেদ–১৩৬ ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইরানের তৈরি Shahed 136 ড্রোনটি স্থাপনাটিতে আঘাত হানে বলে বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। হামলার পর রিফাইনারির কিছু অংশে আগুন দেখা দিলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার জেরে Ras Tanura Refinery–এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধনের সক্ষমতা রয়েছে এ স্থাপনায়। সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।
রাস তানুরায় রয়েছে শোধন ইউনিট, বৃহৎ সংরক্ষণ ট্যাংক, জটিল পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই কেন্দ্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও Israel–কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে অঞ্চলটিতে আন্তর্জাতিক বিমান হামলার ঘটনাও ঘটে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, রাস তানুরার মতো স্থাপনায় হামলা বৈশ্বিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। উৎপাদন বা রপ্তানিতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা ও পুনরায় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর সময়সীমার ওপর। সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে ঝুঁকি থেকেই যাবে।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি Saudi Aramco পরিচালিত রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ইরানের শাহেদ–১৩৬ ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইরানের তৈরি Shahed 136 ড্রোনটি স্থাপনাটিতে আঘাত হানে বলে বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। হামলার পর রিফাইনারির কিছু অংশে আগুন দেখা দিলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার জেরে Ras Tanura Refinery–এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি কেন্দ্র। প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল শোধনের সক্ষমতা রয়েছে এ স্থাপনায়। সংলগ্ন রপ্তানি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।
রাস তানুরায় রয়েছে শোধন ইউনিট, বৃহৎ সংরক্ষণ ট্যাংক, জটিল পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই কেন্দ্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও Israel–কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে অঞ্চলটিতে আন্তর্জাতিক বিমান হামলার ঘটনাও ঘটে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, রাস তানুরার মতো স্থাপনায় হামলা বৈশ্বিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। উৎপাদন বা রপ্তানিতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা ও পুনরায় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর সময়সীমার ওপর। সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে ঝুঁকি থেকেই যাবে।

আপনার মতামত লিখুন