দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এমপিও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাস্তবসম্মত করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।
শিক্ষকদের আর্থিক বাস্তবতা
দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এর বড় একটি অংশ এমপিওভুক্ত। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের স্কুলপর্যায়ের শিক্ষকরা মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন—যা বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিম্ন বেতনের কারণে অনেক শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাসাভাড়া, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্যের চাপ সামলাতে গিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। ফলে পেশাগত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তাদের জীবনমান অনেক ক্ষেত্রে হতাশাজনক।
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া যৌক্তিক হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দিকেও নজর দিচ্ছে, যাতে ধাপে ধাপে বেতন-ভাতা বাড়ানো সম্ভব হয়।
দীর্ঘদিনের দাবি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে মূল বেতনের সঙ্গে উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে বেতন ও সুযোগ-সুবিধার যে বড় পার্থক্য রয়েছে, তা বৈষম্যমূলক।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূলভিত্তি বহন করছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, এমপিও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাস্তবসম্মত করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে।
শিক্ষকদের আর্থিক বাস্তবতা
দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। এর বড় একটি অংশ এমপিওভুক্ত। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের স্কুলপর্যায়ের শিক্ষকরা মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন—যা বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিম্ন বেতনের কারণে অনেক শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাসাভাড়া, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্যের চাপ সামলাতে গিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। ফলে পেশাগত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তাদের জীবনমান অনেক ক্ষেত্রে হতাশাজনক।
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া যৌক্তিক হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দিকেও নজর দিচ্ছে, যাতে ধাপে ধাপে বেতন-ভাতা বাড়ানো সম্ভব হয়।
দীর্ঘদিনের দাবি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে মূল বেতনের সঙ্গে উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে বেতন ও সুযোগ-সুবিধার যে বড় পার্থক্য রয়েছে, তা বৈষম্যমূলক।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূলভিত্তি বহন করছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন